২৬ নভেম্বর ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচি সমর্থনের জন্য গণসংগঠনগুলিকে আবেদন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 4

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকে আগামী ২৬ নভেম্বর গোটা দেশের সবকটি রাজ্যে ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। কৃষকদের একগুচ্ছ দাবিকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্যপালের মাধ্যমে দেশের রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি প্রদানের জন্যেই এই ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিকে সমর্থনের পাশাপাশি কৃষক আন্দোলনকে সংহতি জানানোর ব্যাপারে বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ ও গণসংগঠনের কাছে আবেদন জানালো ‘সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা পশ্চিমবঙ্গ’।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা এক প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছে, যেসব দাবিতে রাজভবন অভিযান কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে, সেগুলো হল, ১। সমস্ত ফসলের জন্য সব কৃষককে সি-২ প্লাস ৫০ শতাংশ হারে ন্যূন্যতম সহায়ক মূল্য প্রদানের বিষয়টি আইনিভাবে নিশ্চিত করা ২। ঋণগ্রস্ত কৃষককে দেনার বোঝা থেকে মুক্তি দিতে ঋণ মকুব প্রকল্প চালু করা ৩। বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল ২০২০ প্রত্যাহার ৪। লখিমপুর খেরিতে কৃষক ও সাংবাদিক হত্যায় অভিযুক্ত দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রীয় প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রকে মন্ত্রীত্ব থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা ৫। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফসলের ক্ষতির জন্য কৃষকদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যাপক কার্যকরী ফসল বিমা প্রকল্প কার্যকর করা ৬। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি স্তরের কৃষক এবং কৃষিমজুরদের জন্য মাসিক ৫ হাজার টাকার পেনশন চালু করা ৭। কৃষক আন্দোলনের সময় চাষিদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও কৃষক আন্দোলনে শহিদ কৃষকদের পরিবার পিছু ক্ষতিপূরণ। এইসব কেন্দ্রীয় দাবিগুলোর পাশাপাশি রাজ্যস্তরের স্থানীয় দাবিদাওয়াগুলোও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হবে বলে জানিয়েছে সংযুকক্ত কিষাণ মোর্চা।

আরো জানানো হয়েছে, কৃষকদেরকে ‘ঋণমুক্তি-পুরো দাম’ ও ‘ঋণ থেকে মুক্তি এবং সম্পূর্ণ পারিশ্রমিকের মূল্য’ বিষয়গুলো সরকার যতক্ষণ না পর্যন্ত পূরণ না করবে, ততদিন দেশব্যাপী ব্যাপক সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে চলেছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। দেশের বৃহত্তর এই কিষাণ জোটের বক্তব্য, সমস্ত ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য প্রদানের বিষয়টি আইনিভাবে নিশ্চিত করা এবং ঋণমুক্তি হল প্রধান দাবি।

উল্লেখ্য, এই ভুবনায়িত নয়া-উদার অর্থনীতির জেরেই দেশের কৃষি সঙ্কট যেমন বেড়ে চলেছে, ঠিক সেভাবেই আত্মঘাতী কৃষকের সংখ্যাও বেড়ে চলেছে। ১৯৯৫ সাল থেকে ভারতে ৪ লাখেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করে মারা গেছেন এবং প্রায় ৬৮ শতাংশ কৃষক পরিবার ঋণ ও আর্থিক সঙ্কটে জর্জরিত।

গণসংগঠনসমূহের প্রতি মোর্চার তরফে অভীক সাহার বক্তব্য, “কৃষি ক্ষেত্রে কর্পোরেট হামলার অর্থই দেশের খাদ্য স্বনির্ভরতায়, বীজ-সার্বভৌমত্বে এবং প্রাণ-প্রকৃতির সমন্বয়বাদী দেশের অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মেরুদণ্ডে আঘাত। আরও যেটা বলার, দেশের মেহনতি মানুষকে নানাভাবে পর্যুদস্ত করতেই ধর্মীয় সাম্প্রদায়িক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা প্রবলভাবে জারি আছে, জারি আছে একটি মাত্র ধর্ম, একটিমাত্র ভাষা এবং একটি মাত্র সংস্কৃতির নিরিখে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তানি ভারত নির্মাণের অপচেষ্টা যা আসলে ভারতের বর্ণগত, ধর্মীয়, ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য খারিজ করার মাধ্যমে বহুত্ববাদী ভারতের ঐক্যকে বিনষ্ট করার শামিল।” মোর্চার আহ্বান, “কৃষক আন্দোলন কৃষক-কৃষিমজুর ও শ্রমিকের হক প্রতিষ্ঠার স্লোগানকে সামনে আনার পাশাপাশি ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রাখারও শপথ নিয়েছিল। আর তাই কৃষিজীবী মানুষের দাবিদাওয়া সম্পূর্ণভাবে আদায় করার সংগ্রাম আসলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয়, বহুত্ববাদী, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক ও সমাজবাদী কাঠামোকে রক্ষা করার এক বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংগ্রামেরই অংশ। আগামী ২৬ নভেম্বর সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকে ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচিকে সমর্থন করে আগামীদিনের কৃষিসংগ্রাম তথা ভারতের সার্বিক গণতান্ত্রিক সংগ্রামের সঙ্গে একাত্ম হতে হবে।”

কিষাণ আন্দোলন আগামী দিনে ফ্যাসিবাদ মুক্ত এক বহুত্ববাদী, গণতান্ত্রিক, সমন্বয়বাদী কৃষিনিবিড় ভারত গঠন করবে বলেও জানিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা।

এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *