আজমগড়ের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন যোগী সরকারের পতনের কারণ হতে পারে

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 2

“গাঁও ছোড়াব নেহি, জঙ্গল ছোড়াব নেহি…” এই গানটি একসময় প্রান্তিক মানুষের কথা ভাবা সকল লোকের হৃদয়ে দোলা দিয়েছিল। এই গানের প্রাসঙ্গিকতা বর্তমান সময়ে কেন্দ্র সহ বিজেপি শাসিত সকল রাজ্যের চাষিদের কাছে আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এবার ঐ গানের প্রাসঙ্গিকতার ক্ষেত্রে নতুন সংযোজন উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার জামুয়া হরিরাম গ্রাম। তথাকথিত ‘উন্নয়ন’এর শিকার ঐ অঞ্চলের সাধারণ চাষিরা। যাঁরা কীনা অনগ্রসর শ্রেণির পরিচয় বহন করে চলেছেন। বিজেপি সরকার জোর করে তাঁদের চাষযোগ্য জমি কেড়ে নিয়ে সেখানে বিমানবন্দর তৈরি করতে   চাইছে। কিন্তু চাষিরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন। তাঁদের দাবি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তাঁদের থাকা খাওয়ার সমস্যা হবে। ভারতে চাষিদের অবস্থা এমনিতেই দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে তারমধ্যে এই প্রকল্পের ফলে তাঁদের বেঁচে থাকাই একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। দেশের ইউনিয়ন সরকারের সাধারণ প্রান্তিক মানুষের জন্য কোনো মাথাব্যথা নেই আর তাই উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা দলে দলে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। সাধারণ কৃষকদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের কর্মীরা আসতে আসতে এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা ধরে রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত এবং গণ আন্দোলন কর্মী মেধা পাটেকর এই আন্দোলনে তাঁদের সংহতির কথা প্রকাশ্য সভা থেকে ঘোষণা করেছেন।

মনে করা যেতে পারে ২০০৬-০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গেও তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার শিল্পের জন্য সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে কৃষকদের থেকে বলপূর্ব্বক জমি অধিগ্রহণের কথা ঘোষনা করে। সেই সময় প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে সমস্ত স্তরের রাজ্যবাসী। চাষযোগ্য জমি অধিগ্রহণে শুধু কৃষকরাই নন পরিবেশ বাস্তুতন্ত্রের ওপরও এর ব্যপক কু-প্রভাব পড়ে। এই কৃষিজমি বাঁচাও আন্দোলনের ফলে ২০১১ তে  ৩৪ বছরের বাম শাসন অস্তমিত হয়। তাই প্রশ্ন থেকেই যায় উত্তরপ্রদেশের এই আন্দোলন যোগী সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দেবে নাতো?  

ট্যাগ করা হয়েছে: ,
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *