জয় কিষাণ: ১৫ নভেম্বর ২০২২

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 7

আগামী ১৯ তারিখ ফতেহ দিবস উদযাপন ও ২৬ নভেম্বর রাজভবন চলো-সহ একগুচ্ছ কর্মসূচি সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার

নিজস্ব সংবাদ: সোমবার নয়া দিল্লির শ্রী রাকাব গঞ্জ সাহেব গুরুদ্বারে অনুষ্ঠিত হল সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার জাতীয় পর্যায়ের বৈঠক। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গোটা দেশের কৃষক সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলন ‘প্রত্যাহার’ করার এক বছর অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ার পরেও কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের দাবিসমূহ পূরণ না করায়, পরবর্তী পদক্ষেপ স্থির করার উদ্দেশ্যেই অনুষ্ঠিত হল সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃবর্গের বৈঠক। এই বৈঠক থেকে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

গত বছর ১৯ নভেম্বর ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের চাপে কৃষি আইনগুলি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। আর সেই কারণেই এ বছর ১৯ ডিসেম্বর সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ‘ফতেহ দিবস’ উদযাপন’ করতে চলেছে।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর মোর্চার ডাকে দেশের কৃষকেরা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এ বছর গোটা দেশের প্রত্যেকটি রাজ্যে ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচি পালন করা হবে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার উদ্যোগে। এই কর্মসূচি থেকে প্রত্যেকটি রাজ্যের রাজ্যপালের কাছে পেশ করা হবে স্মারকলিপি, যাতে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার মূল কেন্দ্রীয় দাবিগুলোর পাশাপাশি রাজ্যস্তরের দাবিগুলোও থাকবে।

ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের পর বিজয়ের পর গত বছর অর্থাৎ ২০২১ সালে ১১ ডিসেম্বর কৃষকেরা তাঁদের গ্রামে ফিরে গিয়েছিলেন বিজয় মিছিল করতে করতে। এ বছর ১১ ডিসেম্বর এই বিজয় উদযাপনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা, আর এরই অংশ হিসাবে ডিসেম্বরের ১ তারিখ থেকে ১১ তারিখ অবধি রাজ্যসভা ও লোকসভার প্রতি সাংসদকে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে মোর্চার তরফে।

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৮ ডিসেম্বর। ঐ বৈঠকে আন্দোলনের পরবর্তী রূপরেখা প্রণয়ন করবে মোর্চা। ঐ বৈঠকেই ‘ঋণ মুক্তি- পুরো দাম/ এমএসপি’র নিশ্চয়তা’ স্লোগানকে সামনে রেখে মোর্চার পরবর্তী সংগ্রামের ব্যাপারে বিশদে আলোচনার পাশাপাশি সিদ্ধান্ত নেবেন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃবর্গ।

ভারত জোড়ো যাত্রায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন চাষিরা, জানালেন কংগ্রেসের মহারাষ্ট্র সভাপতি

ভারত জোড়ো যাত্রা এখন মহারাষ্ট্রে। জাতপাত, ধর্ম, ভাষা, পেশা নির্বিশেষে বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগ দিচ্ছেন তাতে। এরই মধ্যে রবিবার মহারাষ্ট্র প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি নানা পাটোলে জানালেন, যুবসমাজ, কৃষকেরা এবং অরাজনৈতিক মানুষেরা ভারত জোড়ো যাত্রায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তাঁদের অসন্তোষ ব্যক্ত করছেন।

সাংবাদিকদের নানা পাটোলে “আমরা বুঝতে পারছি, বর্তমান সরকারের প্রতি কত বেশি মানুষ বিরক্ত”। সে রাজ্যের বিজেপি সরকারকেও তিনি নিশানা করেন। মহারাষ্ট্রের উৎপাদন প্রকল্পগুলি মধ্যপ্রদেশে চলে যাওয়া নিয়ে তোপ দাগেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে শিন্ডে সরকারের ওপর।

ভারত জোড়ো যাত্রা কন্যাকুমারী থেকে শুরু হয়ে কাশ্মীরের দিকে চলেছে। যে সব রাজ্যের মধ্যে দিয়ে এই পদযাত্রা এগোচ্ছে, সর্বত্রই কৃষকরা তাঁদের সমস্যার কথা তুলে ধরছেন যাত্রীদের কাছে।

সূত্র – এএনআই নিউজ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

দীর্ঘস্থায়ী কৃষক আন্দোলনের প্রস্তুতি চলছে পাঞ্জাবে

পাঞ্জাবের মাঝা অঞ্চলের চাষিরা দিল্লির ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের মতো দীর্ঘ বিক্ষোভ শুরু করতে চলেছেন। পরিকল্পনার জন্য তাঁরা অমৃতসরে একটি বৈঠকে মিলিত হন।

কৃষকদের অভিযোগ, দিল্লির আন্দোলন প্রত্যাহার করার সময় কেন্দ্রীয় সরকার যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সেগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। আন্দোলন চলাকালীন শহিদ হওয়া কৃষকদের পরিবারের জীবিত সদস্যদের জন্য একটি সরকারি চাকরি, স্বামীনাথন কমিশনের রিপোর্ট অনুসারে পদক্ষেপ নেওয়া এবং লখিমপুর খেরির ঘটনার জন্য দায়ীদের কঠোর শাস্তিও দাবির মধ্যে ছিল। বিকেইউ নেতা রাকেশ টিকাইতের মতে আন্দোলন চলাকালীন ৭৫০ জন বিক্ষোভকারী মারা গেছেন।

আগামী ২৬ নভেম্বর দিল্লির কৃষক আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির দিনে সারা পাঞ্জাব রাজ্য জুড়ে ডেপুটি কমিশনারদের অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন চাষিরা। যতদিন না দাবিপূরণ হবে, ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।

কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক যে কৃষকদের আবেগের ওপর চাপ দিয়ে তাঁদের বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে বাধ্য করছে সরকার।

সূত্র – টাইমস নাও

বিশদে জানতে এখানে ক্লিক করুন

বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের বিরুদ্ধে গ্রামবাসী ও খামার নেতারা

উত্তরপ্রদেশের আজমগড় বিমানবন্দরকে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হিসেবে সম্প্রসারণ করে করার বিরুদ্ধে গত অক্টোবর মাস থেকে স্থানীয় খামারের নেতারা ও গ্রামবাসীরা যে বিক্ষোভে শুরু করেছেন, তা ৩৪তম দিনে পড়ল। এই বিক্ষোভে দলিত কৃষকদের অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো।

উল্লেখ্য, ইউডিএনের প্রকল্পের অধীনে এই সম্প্রসারণের কাজ চলছে। একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে হাসানপুর, কাদিপুর হরিকেশ, জামুয়া হরিরাম, জামুয়া জোলহা, গদনপুর চিন্দন পট্টি, মান্দুরি, জিগিনা করমপুর এবং জেহরা পিপরি-সহ নয়টি গ্রামের প্রায় ৬০০ একর জমি থেকে প্রায় দশ হাজার মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জমিগুলি উর্বর জমি। এই জমির ওপর বিমানবন্দর সম্প্রসারিত হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বহু কৃষক।

বারাণসী, কুশিনগর, গোরখপুর, অযোধ্যা এবং এখন এমনকি লখনউতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা এই বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গ্রামবাসী ও জমির মালিকদের অনুমতি ছাড়া কী করে জমি জরিপ করা হল এই নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিক্ষোভকারীরা।

সূত্র- নিউজ ক্লিক

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

চাষিদের সমস্যা থেকে জনগণের দৃষ্টি ঘোরাতে বিজেপির কৃষক সংগঠনের বৈঠক

দিল্লির কৃষক আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি ঘিরে আবার দেশজুড়ে দানা বাঁধতে চলেছে চাষিদের প্রতিবাদ। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতেও কৃষকরা বারবার তাঁদের বঞ্চনার কথা তুলে ধরছেন। সেসব জ্বলন্ত সমস্যার থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে নানা রকম কৌশল নিয়ে চলেছে বিজেপি ও তাদের কৃষক সংগঠন। রবিবার মধ্যপ্রদেশের মোরেনা শহরে বিজেপির কিষাণ মোর্চার একটি বৈঠক আয়োজিত হয়। সেখানে বক্তাদের মুখের শোনা যায়, ডবল ইঞ্জিনের সরকার কৃষকদের স্বার্থে একের পর এক উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়ে চলেছে।

বিজেপির মধ্যপ্রদেশ সভাপতি বিষ্ণু দত্ত শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর, কিষাণ মোর্চার রাজ্য সভাপতি দর্শন সিং চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। নরেন্দ্র সিং তোমরের বক্তব্যে উঠে আসে, কেন্দ্রের মোদি সরকার কৃষকদের কল্যাণ ও সমৃদ্ধির জন্য অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে। কৃষক বান্ধব মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান রাজ্যের চাষিদের জন্য সর্বদা প্রস্তুত। বিষ্ণু দত্ত শর্মা বলেন, ২০০৩ সালের আগে মধ্যপ্রদেশ পরিচিত ছিল ‘বিমারু’ রাজ্য হিসেবে। বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর ওই রাজ্য উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যায়।

বিজেপি নেতাদের এই বক্তব্যকে নেহাতই ছলনা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিশ্লেষকদের মতে, শীঘ্রই মধ্যপ্রদেশ উত্তাল হয়ে উঠবে কৃষক আন্দোলনে।

সূত্র – দ্য হিতবাদ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন




ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *