জয় কিষাণ: ১৪ অক্টোবর

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 7

প্রতিদিন দেশে ৩০ জন কৃষিজীবীর আত্মহত্যা, বলছে এনসিআরবি

হিন্দু-হিন্দি-হিন্দুস্তান গড়া যাদের লক্ষ্য, যাদের লক্ষ্য আদানি-আম্বানির মাধ্যমে দেশ লুঠ করা, তারা কীভাবে দেখবে দেশের কৃষিজীবীর স্বার্থ? বিভিন্ন মহল থেকে এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেননা সরকারি পরিকাঠামো থেকেই এই তথ্য সামনে আসছে যে মোদি-শাহ জমানায় দেশে প্রতিদিন গড়ে ৩০ জন কৃষক আত্মহত্যা করছেন।

দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো’ ভয়ঙ্কর এই পরিসংখ্যান পেশ করেছে৷ দেখা যাচ্ছে, ২০২১ সালের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে প্রতি দিন অন্তত ১৫ জন কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন! কৃষকদের পাশাপাশি ক্ষেতমজুররাও আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। গড়ে ১৫ জন ক্ষেতমজুর প্রতিদিন আত্মহত্যা করছেন৷ এই পরিসংখ্যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে ‘ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো’ থেকেই প্রাপ্ত।

সমাজবিজ্ঞানীদের একাংশ মনে করছেন, মূলত ঋণের জালে জড়িয়ে অথবা পেশার অনিশ্চয়তায় হতাশাগ্রস্ত কৃষিজীবীরা এভাবে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷ কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে কোভিড অতিমারি-পরবর্তী পর্যায়ে মোদি সরকারের ভ্রান্ত অর্থনীতির কারণে রোজগার হারাচ্ছেন কৃষিক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত মানুষেরা। ফলে বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতা।

সূত্র- আনন্দবাজার অনলাইন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ওড়িশার রাজপথে তেলেঙ্গানার কৃষক কল্যাণ প্রকল্পের দাবি ধ্বনিত হল

তেলেঙ্গনা সরকার কৃষকদের পেনশন-সহ যেসব সামাজিক ও আর্থিক সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, ওড়িশা সরকারকেও সেই পথে হাঁটতে হবে৷ এমনটাই দাবি উঠল বাংলার প্রতিবেশী ওড়িশা রাজ্যে৷

গত বৃহস্পতিবার নবনির্মাণ কৃষক সংগঠনের নেতা অক্ষয় কুমারের নেতৃত্বে ওড়িশার জাজপুর জেলার হাজার হাজার কৃষক ধানমণ্ডল রেলওয়ে স্টেশন থেকে ওড়িশার রাজধানী ভুবনেশ্বরে অবধি একটি পদযাত্রা শুরু করেন এই দাবিতে। পুলিশের বাধার মধ্যেও পদযাত্রাটি এগিয়ে গেছে বলে খবর।

তেলেঙ্গানার কৃষক নেতা নাল্লামালা ভেঙ্কটেশ্বর রাও এবং নরসিমহা নাইডু ওড়িশার কৃষকদের সমর্থনে পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন বলে খবর৷

ওড়িশা থেকে ভেঙ্কটেশ্বর রাও জানিয়েছেন, ওড়িশার কৃষকদের দাবির মধ্যে রয়েছে, ৬০ বছর বয়সী কৃষকদের পেনশন চালু করা এবং তেলেঙ্গানায় আসারা পেনশনের মতো ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করা এবং কৃষি পণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত করা। তিনি আরো জানান, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজ্যের হাজার হাজার কৃষক তাদের নিজ নিজ সরকারের কাছে তেলেঙ্গানা সরকারের মতো করে কৃষকবান্ধব প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে।

সূত্র- তেলেঙ্গানা টুডে

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সরকারি উদাসীনতায় এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্য না থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে কাশ্মীরের আপেল ব্যবসায়ীদের

কাশ্মীরের আপেলচাষি ও ব্যবসায়ীরা ক্রমশই ক্ষুব্ধ হচ্ছেন জম্মু-কাশ্মীর প্রশাসনের ওপর। একে তো আপেলের ব্যাপারে কোনো ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করেনি সরকার। দ্বিতীয়ত, হাইওয়েতে আপেলের ট্রাক আটকে রেখে, ফল পচিয়ে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে কাশ্মীরিদের। আপেল ইস্যুতে তাই উত্তপ্ত হচ্ছে কাশ্মীর।

গত সপ্তাহের মঙ্গলবার জম্মু কাশ্মীরের কাজিগুন্ড জাতীয় সড়কে অন্যান্য ফল চাষিদের সঙ্গে এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল এক আপেল চাষি আক্ষেপের সুরে বলেন যে বছরের এই সময় সবচেয়ে প্রতীক্ষিত পণ্য ছিল আপেল। এই বছর তাঁদের আপেল দিল্লির আজাদপুর মান্ডিতে আবর্জনার স্তুপে ফেলে দেওয়া হচ্ছে। আপেল বোঝাই ট্রাকগুলিকে মহাসড়কে বেশ কয়েক দিন সেগুলিকে আটকে রেখে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী ভারতের বিভিন্ন বাজারের উদ্দেশ্যে কাশ্মীরি আপেল বহনকারী ৮০০০টিরও বেশি ট্রাককে হাইওয়েতে অগ্রসর হতে দেওয়া হয়নি। এই ঘটনায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সোপোরের ফলের মান্ডি কাশ্মীরের বৃহত্তম ফলের মান্ডিগুলির মধ্যে একটি। যেখানে শুধুমাত্র সেপ্টেম্বরেই ৫০০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে।

দক্ষিণ কাশ্মীরের কুলগাম জেলার কিসান তেহরিকের জম্মু কাশ্মীরের জেলা সভাপতি জহুর আহমেদের বক্তব্য, কাশ্মীর উপত্যকায় আপেলের আশার অতিরিক্ত ফলন হওয়া সত্ত্বেও, মূল্য হ্রাস এবং ট্রাক থামানোর কারণে আপেলচাষি ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন৷

সূত্র – দ্য কাশ্মীরিয়াৎ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

যোগী সরকারের অধিগৃহীত কৃষিজমির ক্ষতিপূরণের অর্থে খুশি নন কৃষকেরা

তৃতীয় বিমানপথ এবং বাণিজ্যিক এমআরও সেন্টার স্থাপনের জন্য সরকারের ১১৮৫ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকার। যে ছয়টি গ্রাম থেকে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে সেগুলো হল করৌলি বাঙ্গার, দয়ানাতপুর, কুরেব, রণহেরা এবং মুন্ডেরা।

উত্তরপ্রদেশ সরকার বিমানবন্দর প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য অধিগৃহীত কৃষি জমির ক্ষতিপূরণ সামান্য কিছুটা বাড়িয়েছে ঠিকই, কিন্তু কৃষকদের বক্তব্য, এটি পর্যাপ্ত নয়৷ কৃষকদের বড় একটি অংশ আরও সঠিকমাত্রায় পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়িত করা ও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন। তাঁরা বলেছেন, জেওয়ারের বাঙ্গারে স্থানান্তরিত যে কৃষকরা প্রথম পর্যায়ে জমি দিয়েছেন তাঁরা এখনও পর্যাপ্ত হারে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের সুবিধা পাননি ।

বনোয়ারিবাসের কৃষক দেবদত্ত শর্মার ৫ বিঘা জমি (৩.০৯৫ একর) প্রথম পর্যায়ের অধীনে অধিগৃহীত হয়েছে। তিনি বলেন, “সরকারের তাঁদের প্রতি অবিচার করা উচিত নয়৷ আমরা জমি ছেড়ে না দিলে বিমানবন্দর করা সম্ভব হত না। কিন্তু এখন সরকার আমাদের দুর্দশা উপেক্ষা করতে চায়৷ আমাদের দাবি দ্বিতীয় পর্যায়ে জমি অধিগ্রহণের জন্য আরও ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।”

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ঋণের দায়ে কৃষকের মৃত্যু কর্ণাটকে

গত বুধবার কর্ণাটকের কাগাওয়াডের মানাগাভাল্লি গ্রামে মোবাইলের টাওয়ার থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক কৃষকের। মৃত কৃষকের নাম সঞ্জয় পাতিল (৩৫)।

সূত্রের খবর অনুযায়ী তিনি মদ্যপান করে মোবাইল টাওয়ারের শীর্ষে উঠছিলেন আত্মহত্যা করবেন বলে, কিন্তু সেখানে পৌঁছোবার আগেই পিছলে পড়ে মারা যান।

জানা গেছে, মৃত কৃষকের ২ একর জমির ফসল অসময়ে বৃষ্টির কারণে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়৷ পাশাপাশি তিনি ঋণের জালে বন্দি হয়ে অবসাদগ্রস্ত। এই কারণেই তিনি আত্মঘাতী হতে মোবাইল টাওয়ারে উঠেছিলেন। সেখান থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এই ঘটনায় কাগাওয়াড পুলিশ স্টেশনে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সূত্র – দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরও খবর

হরিয়ানার কার্নাল জেলায় শস্য বাজারের বাইরে কৃষক বিক্ষোভ

বৃহস্পতিবার শ্লথ গতিতে ফসল সংগ্রহ এবং শস্য তুলে দেওয়ার আগে বাজারে প্রবেশের গেট পাশ মেলায় হাজারও বিক্ষুব্ধ কৃষক কর্নাল শস্য বাজারের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন৷ তাঁদের অভিযোগ, সকাল থেকে গেটের বাইরে শস্য নিয়ে অপেক্ষা করার পরেও কোনো কর্মচারী গেট পাশ দিতে আসেননি। যদিও কর্নাল মার্কেট কমিটির সেক্রেটারি সুন্দর সিং কাম্বোজ জানিয়েছেন যে চার নম্বর গেটে একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা ছিল, তবে এটি সমাধান করা হয়েছে।

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কৃষকের থেকে লুট: ১৩ অক্টোবর

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *