জয় কিষাণ: ৯ নভেম্বর ২০২২

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 6

হিমঘরে আলুর দামে ধস, চিন্তায় পূর্ব বর্ধমানের আলু চাষিরা

চলতি মাসের শুরু থেকেই ধস নেমেছে হিমঘরে মজুত আলুর দামে। আর এতেই কপালে চিন্তার ভাঁজ পাইকারি ব্যবসায়ী থেকে আলুচাষিদের। আলুর দাম আরো বাড়তে পারে এই অনুমান করে অনেক চাষি হিমঘরে আলু মজুত করেছিলেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের মাথায় হাত। একটা সময় হিমঘরে মজুত আলুর দাম ৯০০ টাকা প্রতি বস্তা থাকলেও  এখন তা ৩৫০ টাকায় কেনার মতোও লোক নেই।

অন্যান্য জেলার পাশাপাশি রাজ্যের শস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত পূর্ব বর্ধমান জেলায় হিমঘরে মজুত আলুর বন্ডের দাম অস্বাভাবিক হারে কমে গিয়েছে। চাষিদের এর ফলে প্রচুর লোকসান হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, বিগত মাসগুলিতে উৎপাদনের পর থেকে হিমঘরে মজুত আলুর ষাট শতাংশ খরচ হয়েছে । এখনও ৪০ শতাংশ আলু রয়ে গিয়েছে। অন্য রাজ্য থেকেও আলু আসছে। তাই হিমঘরে মজুত আলুর তেমন চাহিদা নেই। তাছাড়া এ বছর আলুর আয়তন ভালো ছিল না। অনেকেই ছোট আলু বস্তাবন্দি করে হিমঘরে রেখেছিলেন। সেই সব আলুর এখন আর তেমন দাম মিলছে না।

সূত্র- নিউজ ১৮ বাংলা

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মিলছে না পর্যাপ্ত সার, কৃষকেরা ক্ষুব্ধ

পাঞ্জাবের মুক্তসার জেলায় চাষিদের পর্যাপ্ত সার মিলছে না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ স্থানীয় কৃষকেরা। জানা গেছে, অক্টোবরের ২৫ তারিখ থেকে নভেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত গমের বীজ বপনের আদর্শ সময়। এই বীজ বপনের জন্য প্রতি একরে ৫৫ কেজি ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট সারের প্রয়োজন। কিন্তু অভিযোগ, গত বছরের মতো চলতি বছরেও সার অপ্রতুল। বর্তমানে কিছু সার ব্যবসায়ী ডিএপি সার দিয়ে কীটনাশক বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

পাঞ্জাবের গুরুসার গ্রামের কৃষক গুরমিত সিং বলেন, “আমার চার একর জমিতে গম বপন করার জন্য ডিএপি সার দরকার, কিন্তু কোথাও সেটা পাওয়া যাচ্ছে না”। এই অভিযোগ প্রায় সকল চাষিদের। কৃষক নেতা নির্মল সিং জাসিয়ানার বক্তব্য, “আগামী তিন-চার দিনে যদি অবস্থার উন্নতি না হয়, তবে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে পা বাড়াব।” কৃষকেরা অভিযোগ করছেন, সারের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের আধিকারিকদের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন কৃষকেরা।

এ বিষয়ে মুক্তসারের প্রধান কৃষি আধিকারিক গুরপ্রীত সিং বলেন, “জেলায় ডিএপি সারের খুব কম ঘাটতি রয়েছে। ৫০ কেজি ওজনের এক ব্যাগ ডিএপি সারের দাম একজন কৃষকের জন্য ১৩৫০ টাকা। মোট ৩১০০০ মেট্রিক টন ডিএপি সারের প্রয়োজনের নিরিখে জেলায় ২১০০০ মেট্রিক টন সারের সরবরাহ হয়েছে। জেলায় মাত্র ৮ শতাংশ গম বপন করা হয়েছে”। তাঁর আরও বক্তব্য, সার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সারের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে বিক্রি করার কোনো অভিযোগ তারা পাননি। যদিও গুরপ্রীতের এই কথা মিথ্যার শামিল বলে অভিযোগ কৃষকদের।

সূত্র- দ্য ট্রিবিউন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

যান্ত্রিক পরিকাঠামো যথেষ্ট নয়, খড় পোড়াতে বাধ্য হচ্ছেন পাঞ্জাবের কৃষকেরা

পাঞ্জাব-হরিয়ানায়া সাধারণত বছরের এই সময় রবি শস্য বপনের আগে খেত পরিষ্কার করার জন্য ধানের খড় পোড়ানো হয় এবং পোড়ানোর ধোঁয়া দূষণের মাত্রা বাড়ায়। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত, ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (IARI) থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে পাঞ্জাবে ধানের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর ২৯ হাজার ৯৯৯টি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ৬ নভেম্বর পর্যন্ত পাঞ্জাবের দক্ষিণের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ অগ্নিকাণ্ডের সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে যার মধ্যে  সাংরুরে ৪৮১৫টি, পাতিয়ালায় ৩০০৫ টি ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

কৃষকেরা দাবি করেছেন, পরিকাঠামোর অভাব থাকার জন্য তাঁরা খড় পোড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী যন্ত্রের দাম অস্বাভাবিক বেশি হওয়ায় কৃষকেরা সেই যন্ত্র কিনতে পারছেন না। এদিকে পাঞ্জাব সরকার খড় ব্যবস্থাপনার জন্য কৃষকদের প্রতি একর ২৫০০ টাকা আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। যদিও কৃষকদের বক্তব্য, এই পরিমাণ টাকা যথেষ্ট নয়। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি খড়ের উপযুক্ত ব্যবস্থা করার জন্যে যান্ত্রিক পরিকাঠামো মজবুত করার দাবি তুলছেন কৃষকেরা।

সূত্র- দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

উত্তরপ্রদেশে কৃষিজমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কৃষকেরা

‘জীবন দেবো, তবু জমি দেবো না’। আজমগড়ে জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনে এটাই এখন কৃষকদের স্লোগান। বিমানবন্দরের প্রস্তাবিত প্রকল্পের জন্যে চাষিদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে চলছে যোগী সরকারের জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া। তার বিরুদ্ধেই আন্দোলন জোরালো আকার নিয়েছে বলেই জানা যাচ্ছে।

কৃষিজীবীদের জীবন-জীবিকার লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত বড় অংশের সমাজকর্মীদের মতে, ভারতের ‘উন্নয়ন’-এর যে রূপরেখা বর্তমান কেন্দ্র এবং উত্তরপ্রদেশ সরকার তৈরি করেছে তা আসলে প্রান্তিক মানুষের পরিপন্থী। আজমগড়ের স্থানীয় কৃষকেরা মূলত দলিত ও অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষ। আর তাঁদের ওপরেই নেমে এসেছে তথাকথিত উন্নয়নের খাঁড়া।

আজমগড়ে জামুয়া নামের একটি জায়গায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে হিন্দুত্ববাদী যোগী সরকার। এই ব্যাপারে ৫৫ বছর বয়সী কৃষক ফুলমতির জিজ্ঞাসা, “আমার মতো হাজার হাজার মানুষ জামুয়া থেকে দূরে থাকার কথা কল্পনাও করতে পারে না। আমরা কোথায় যাব? আমরা কি করবো?” তিনি প্রতিবাদকেই বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তাঁর আরও বক্তব্য, “আমাদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে, খিদেও কমেছে। দিন রাত আমাদের একটাই চিন্তা, কীভাবে বাঁচানো যাবে আমাদের জমি, আমাদের জীবন-জীবিকা”। তিনি বলেন, “সরকারের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণের ঘোষণায় আমাদের এত বছর যে সুখ ছিল তা নষ্ট হয়ে গেছে।”

এখন দেখার, বিত্তশালীদের পক্ষে এই ‘উন্নয়ন’ প্রকল্পের সমান্তরালে প্রান্তিক চাষিদের প্রতিবাদ উত্তরপ্রদেশে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে জনমত তৈরি করতে পারে কি না। সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল।

সূত্র- নিউজ ক্লিক

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে দাদরিতে এনটিপিসি প্রকল্পের সামনে কৃষক বিক্ষোভ

অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে উত্তরপ্রদেশের দাদরির গৌতম বুদ্ধ নগরে এনটিপিসি দাদরি প্রকল্প সাইটের সামনে ২৪ টি গ্রাম থেকে ৬০০ জন কৃষক বিক্ষোভে অংশ নিলেন। তাঁদের দাবি, ১৯৭০-এর দশকের গোড়ার দিকে তাঁদের থেকে জমি অধিগ্রহণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। এদিনের বিক্ষোভকে পুলিশ জলকামান দিয়ে দমন করার চেষ্টা করে। মোট ১২ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সূত্র – হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কৃষকের থেকে লুট: ৭ নভেম্বর ২০২২

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *