জয় কিষাণ: ২৪ নভেম্বর ২০২২

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 7

পাঞ্জাবে কৃষক নেতা জগজিৎ সিং দাল্লেওয়ালের আমরণ অনশন পঞ্চম দিনে পড়ল

কৃষকদের বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (একতা সিধুপুর) সভাপতি দাল্লেওয়ালের আমরণ অনশন বুধবার পঞ্চম দিনে পড়ল। দাল্লেওয়াল গত শনিবার পাঞ্জাবের ফরিদকোটে জাতীয় মহাসড়ক প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির জন্য বর্ধিত ক্ষতিপূরণ-সহ দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং কীটপতঙ্গের আক্রমণের কারণে ফসলের লোকসানের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে তাঁর অনশন শুরু করেছিলেন।

অনশনস্থল থেকে সংবাদসংস্থাকে দেওয়া এক বার্তায় দাল্লেওয়াল বলেন, “যদি আমি মরেও যাই, তাহলে আমার বাকি কৃষক ভাইদের কাছে আহ্বান, তাঁরা যেন এই আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়।” অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হলেও তিনি যে চিন্তিত নন তা স্পষ্ট করে তিনি বুঝিয়ে দেন। অনশনরত কৃষক নেতার স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য ফরিদকোটে বিক্ষোভস্থলে একটি মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।

সূত্র- ডেকান হেরাল্ড 

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

রাসায়নিক সারের জোগানে ঘাটতি, ধর্নায় দক্ষিণ দিনাজপুরের বাম কৃষক সংগঠন

সমবায় সমিতিতে সারের জোগানে ঘাটতি। সোমবার রাসায়নিক সার না পেয়ে ধর্নায় বসল বামেদের কৃষক সংগঠন। ঘটনাটি ঘটেছে বংশীহারি মহাবাড়ি পঞ্চায়েতের কুশকারী সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতিতে। রবি মরশুমের শুরুতেই কৃষকরা সার না পেয়ে হতাশ। এর ফলে তাঁরা চাষের ব্যাপারে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন। খোলা বাজারে ১৪৭০ টাকার রাসায়নিক সার ২২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই কালোবাজারির বিরুদ্ধেও বাম কৃষক সংগঠনটি সরব হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সমিতির ম্যানেজার কালোবাজারি করে কৃষকদের না দিয়ে অন্যত্র উচ্চ মূল্যে বিক্রি করে টাকা পকেটস্থ করছেন। যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওই ম্যানেজার।

সমবায় থেকে সঠিক মূল্যে রাসায়নিক সার না পাওয়া গেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়ে সমবায়ের সামনে আমরণ অনশনে বসারও হুমকি দেয় কৃষক সংগঠনটি। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সিপিএমের বংশীহারি এরিয়া কমিটির সম্পাদক জাহান্দার হোসেন, গৌতম ঘোষ প্রমুখ। তাঁরা জানান তাঁদের দাবি পূরণ না হলে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবেন।

সূত্র- উত্তরবঙ্গ সংবাদ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পাঞ্জাবে পাটোয়ারির দুর্ব্যবহারে হতাশ কৃষকের আত্মহত্যার চেষ্টা

মঙ্গলবার পাঞ্জাবের খাপ্পিওয়ানওয়ালি গ্রামের কৃষক জগমিত সিং (৩৮), জেলা প্রশাসনিক কমপ্লেক্সের ‘ফর্দ কেন্দ্রে’ বিষাক্ত পদার্থ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানা যায়। জগমিতের বোন অমরজিৎ কৌর দাবি করেছেন যে, “বাবা-মায়ের মৃত্যুর পরে, ভাই জমির রেকর্ড আপডেট করার জন্য গত তিন মাস ধরে পাটোয়ারির কাছে ঘুরছিলেন। জগমিত পাটোয়ারিকে ঘুষ হিসাবে ১০ হাজার টাকাও দিয়েছিলেন। ভাই আজ জেলা প্রশাসনিক কমপ্লেক্সে যান এবং আমিও তার সাথে ছিলাম। সেখানে পাটোয়ারি আমার ভাইয়ের সাথে দুর্ব্যবহার করে। এতে বিরক্ত ও হতাশ হয়ে আমার ভাই তাঁর জীবন শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন”।  

অমরজিৎ কৌর আরও বলেন, তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভাইকে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। “আমি পাটোয়ারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করছি,” বলেও জানান তিনি।

সূত্র- দ্য ট্রিবিউন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন গোষ্ঠীর কৃষকদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার

বুধবার ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন গোষ্ঠীর কৃষকরা তাঁদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করলেন। দিল্লি-চণ্ডীগড় মহাসড়ক অবরোধ করার একদিন আগে তাঁদের একটি প্রতিনিধিদল কৃষক নেতা গুরনাম সিং চারুনি, মুখপাত্র রাকেশ বেইনস এবং আম্বালা ইউনিটের সভাপতি মালকিত সিং-এর নেতৃত্বে আম্বালার সেনানিবাসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অনিল ভিজের সঙ্গে দেখা করে।

২০২০ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন তাঁরা শুরু করেছিলেন সেখানে কৃষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। এই মামলা বাতিলের দাবিতেই তাঁরা ভিজের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের এই বৈঠকের পর ভারতীয় কিষান ইউনিয়ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদল জানান, মন্ত্রী তাঁদের আন্দোলনের সময় নথিভুক্ত সব মামলা ফিরিয়ে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই মামলাগুলি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, আন্দোলনে সমর্থনকারী সরকারি কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আরও খবর

মূল্যবৃদ্ধির দাবি মেনে নেওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেন আখ চাষিরা

মঙ্গলবার কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বাসভরাজ বোম্মাই আখের মূল্য প্রতি টন ২,৮৫০ টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার পরে বগালকোট জেলার কৃষকরা তাঁদের বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নিলেন। আন্দোলনের নেতারা বলেন, বেশ কয়েকটি জেলা জুড়ে কৃষকরা দাবি করছেন আখের দাম কুইন্টাল প্রতি কমপক্ষে ২,৯০০ টাকা বাড়াতে হবে। এখন পর্যন্ত, দাম ছিল প্রায় ২,৭০০- ২,৭৫০ টাকা প্রতি টন। সোমবার বগালকোট জেলা কালেক্টরের সঙ্গে দেখা করার পরে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত লিখিতভাবে কারখানার মালিকদের জানানো হয়। বোম্মাই আগামী ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আখ চাষিদের সঙ্গে বৈঠক করার আহ্বান জানিয়েছেন। কৃষকরা দাবি পূরণ না হলে আরও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচির ব্যাপক প্রচার হুগলি জেলায়

কৃষকদের বকেয়া দাবিদাওয়া পূরণের ব্যাপারে আগামী ২৬ নভেম্বর গোটা দেশের সবকটি রাজ্যে যে ‘রাজভবন চলো’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, বুধবার ‘সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা’র পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটির তরফে তার প্রচার চলল হুগলি জেলার বিভিন্ন জায়গায়। কেন্দ্র ও রাজ্য— এই উভয় সরকারের কাছে রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ও স্থানীয় ক্ষেত্রে কৃষকদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে এদিন কামারপাড়া ও পোলবা, একতারপুরে প্রচার চালানো হয়।

কৃষিজীবী মানুষের রাজভবন অভিযানের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে অবগত করা হয় এই প্রচার থেকে। এমএসপি আইন প্রণয়ন, কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ বিল-২০২০ বাতিল, কৃষিবিমা ও কৃষকদের পেনশন চালু করার মতো দাবিগুলোর ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। বিলি করা হয় প্রচারপত্র। এদিন এই প্রচার কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন প্রবীণ কৃষক নেতা কল্যাণ সেনগুপ্ত, কার্তিক পাল, মুকুল কুমার, শেখ আনারুল ও সুশান্ত কাঁড়ি। এছাড়াও সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য নেতৃত্বও শামিল হয়েছিলেন প্রচার কর্মসূচিতে।

বর্ধমান জেলার হাটগাছা গ্রামে জয় কিষাণ আন্দোলনের নতুন ইউনিট কমিটি গঠন করা হল

আজ বর্ধমান জেলার কালনা দু’নম্বর ব্লকের অধীনে কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের হাটগাছা গ্রামে জয় কিষাণ আন্দোলনের নতুন ইউনিট গঠন করা হল পান্ডুয়া ব্লক কমিটির সদস্য সঞ্জয় মাঝির নেতৃত্বে। উপস্থিত ছিলেন জয় কিষাণ আন্দোলনের হুগলি জেলা সভাপতি সুশান্ত কাঁড়ি-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব এবং বহু কৃষক।

সারা দেশে কৃষকদের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে জয় কিষাণ আন্দোলন। পশ্চিমবঙ্গেও তারা চাষিদের রুটিরুজি, জল-জমি-জঙ্গলের ওপর অধিকার, কৃষি উৎপাদনের ন্যূনতম মূল্য (এমএসপি), ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই এবং কর্পোরেট লোভ থেকে খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থাকে বাঁচাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

বর্ধমান একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ধান, আলু, পাট ছাড়াও নানা রকম সবজির চাষ এই জেলায় হয়। কৃষকদের ওপরে নানা রকমের জুলুম চলে। সরকার এবং বেসরকারি পুঁজি নানাভাবে শোষণ বাড়িয়ে চলেছে। চাষিদের দাবিদাওয়ার লড়াইয়ের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ বিরোধী বৃহত্তর লড়াইয়ে জয় কিষাণ আন্দোলন কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের একত্রিত করছে। এই প্রচেষ্টায় গতি সঞ্চার করবে হাটগাছা গ্রামের নতুন ইউনিট কমিটি।

কৃষকের থেকে লুট: ২২ নভেম্বর ২০২২

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *