জয় কিষাণ: ১ নভেম্বর ২০২২

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 8

২৬ নভেম্বর রাজভবন চলোর ডাক কৃষক সংগঠনগুলির

কৃষক আন্দোলনের ২ বছর পূর্তিতে সারা ভারতে ২৬ নভেম্বর  রাজভবন চলোর ডাক দিল কৃষক সংগঠনগুলির মিলিত মঞ্চ ‘সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা’। প্রসঙ্গত, তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষক সংগঠনগুলির ডাকে ২০২০ সালের নভেম্বরে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লির সীমানা অবরোধ করে প্রতিবাদে শামিল হয়েছিলেন। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের কৃষক বিরোধী নীতির ফলে কৃষকেরা ক্রমশ কোণঠাসা হতে হতে এই বিপুল আন্দোলনের সূচনা হয়।

ওইদিন সারা দেশব্যাপী রাজভবন অভিযান করে রাজপালের কাছে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। তার আগে এ ব্যাপারে দাবিসম্বলিত স্মারকলিপি তৈরি করতে ১৪ নভেম্বর দিল্লিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২৬ নভেম্বর কৃষক সংগ্রামের দু-বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশাল মিছিল করে রাজভবন অভিযানে যাবেন কৃষকরা।

যে দাবিগুলির ভিত্তিতে রাজভবন অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হল, এমএসপি আইন প্রণয়ন, বিদ্যুৎ বিল বাতিল, মন্ত্রী অজয় মিশ্রকে বরখাস্ত করা, কৃষক পেনশন, চাষিদের ঋণমুক্তি, কার্যকরী ফসল বিমা এবং চাষিদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার।

এদিনের অনলাইন কৃষকসভায় কৃষক নেতা হান্নান মোল্লা, দর্শন পাল, যুধবীর সিং, মেধা পাটেকর, রাজারাম সিং, অতুল কুমার অঞ্জন, সত্য়বান, অশোক ধাওয়ালে, অভীক সাহা, সুখদেব সিং, রামিন্দর সিং, বিকাশ শিশির, ডা. সনিলাম প্রমুখরা উপস্থিত ছিলেন । কৃষক নেতারা এই বৈঠকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজ্যে রাজভবন পদযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। প্রস্তুতিমূলক সভাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

সূত্র- ওয়ান ইন্ডিয়া বাংলা

 বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মধ্যপ্রদেশে চাষিদের থেকে জমি হাতিয়ে নিল হিন্দুত্ববাদীরা

দরিদ্র কৃষকদের থেকে জমি হাতানোর অভিযোগ উঠল এবার মধ্যপ্রদেশে। একটি মুসলিম সংস্থার নাম করে এই ঘটনা ঘটানো হয়। ২০০০ সালে ‘তানজিম-ই-জারখেজ’ নামে একটি সংস্থা খারগান শহরের প্রান্তে থাকা গরিব কৃষকদের থেকে স্বল্প মূল্যে জমি কেনে। জমি কেনার সময় তারা চাষিদের বলে একটি মুসলিম কমিউনিটি গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা পাথুরে জমির সমস্তটাই কিনে নিতে চায়। কিন্তু এই ট্রাস্টের মাথায় ছিলেন বিজেপি নেতা রঞ্জিত সিং ডান্ডির। আগে তিনি বজরং দলের কো-কনভেনার ছিলেন। ‘তানজিম-এ-জারখেজ’-এর নাম বদল নিয়ে তাঁর যুক্তি- নাম যদি ‘তানজিম-এ-জারখেজ’হয়, তাতে ক্ষতি কী? আসলে ইসলামিক নাম ব্যবহার করে এই কাজ হিন্দুত্ববাদীদের। এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

নন্দ কিশোর কুশাওয়ালা নামে এক কৃষক জানিয়েছেন, ২০০৪ সালে জাকির নামে এক ব্যক্তি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ওই ব্যক্তি জানান, এখানে গরুদের কসাইখানা তৈরি হবে। তাই, মুসলিমদের স্বার্থে তিনি যেন জমি বিক্রি করেন। কিশোর কুশাওয়ালা জানিয়েছেন, জাকিরের কথায় বিশ্বাস করে তিনি তাঁর পাঁচ একর জমি ৪০ হাজার টাকা বিক্রি করে দেয়। এখন সে দেখছে জমি মূলত গোশালা তৈরির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ২০০ একরের মধ্যে ১৫০ একর জমিই ১১টি সংস্থার থেকে নেওয়া। বাকি জমিগুলো ক্ষুদ্র চাষিদের থেকে নেওয়া হয়েছে।

সূত্র- পিপলস রিপোর্টার

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হিমাচল প্রদেশের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে আপেল চাষিদের আন্দোলন প্রভাব ফেলতে পারে

১৯৯০ সালে হিমাচল প্রদেশ উপত্যকা আপেল চাষিদের ভয়ঙ্কর আন্দোলন দেখেছিল। সে সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ছিলেন বিজেপির শান্তা কুমার। প্রতিবাদী চাষিদের দাবি ছিল আপেলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঠিক করতে হবে।

১৯৯০ সালের ২২ জুলাই হিমাচল প্রদেশের কোটগড়-এ শয়ে শয়ে আপেল চাষি বিক্ষোভ দেখানোর সময় পুলিশ গুলি চালায়। গোভিন্দ সিং, তারা চাঁদ এবং হীরা সিং এই তিনজন কৃষক পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন এছাড়াও বহু কৃষক আহত হন। পরবর্তীতে হিমাচল প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপি শাসিত সরকারের পতন হয়। কংগ্রেসের বীরভদ্র সিং নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় আসেন।

৩০ বছর আগে আপেল আন্দোলনের পর থেকে আপেল চাষিরা খুব কমই আন্দোলনের রাস্তায় নেমেছে। গত বছর থেকে রাজ্যের আপেল চাষিদের ক্রমবর্ধমান খরচ এবং হ্রাসপ্রাপ্ত লাভের মুখোমুখি হয়ে কিছু দাবি নিয়ে রাস্তায় ফিরে আসে। কৃষক বিরোধী রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকার উপত্যকার আপেল চাষিদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সূত্র- ডেকান হেরাল্ড

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পাঞ্জাব সরকার ইনসেন্টিভের নামে ধান চাষিদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, অভিযোগ বিরোধী দলনেতার

পাঞ্জাবের বিরোধী দলের নেতা পারতাপ সিং বাজওয়া রবিবার কৃষকদের সঙ্গে আম আদমি পার্টির প্রতারণার অভিযোগ আনেন। পাঞ্জাবের ধান চাষিদের ফসলের বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ করার জন্য পাঞ্জাব সরকার কর্তৃক ২৫০০ টাকা নগদ ইন্সেন্টিভকে এককথায় তিনি ‘কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা’ বলে বলেছেন।

একটি বিবৃতিতে বাজওয়া বলেছেন যে আম আদমি পার্টি প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ। যার কারণে, ধান চাষিরা অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে ফেলতে বাধ্য হয়। যা পাঞ্জাবের প্রধান শহরগুলিতে বায়ুর গুণমান সূচককে খারাপ করেছে। তিনি আরো বলেন, “রাজ্যে খড় পোড়ানোর ১২০০০ ঘটনা অতিক্রম করেছে এবং গত সপ্তাহে ৮০০০-এর উপরে এই ঘটনা ঘটেছে। লুধিয়ানা, অমৃতসর, জলন্ধর পাতিয়ালা, ভাতিন্দা এবং চণ্ডীগড়-সহ কয়েকটি বড় শহরে বাতাসের গুণমান সূচক মাঝারি থেকে আরো খারাপ হয়েছে।”

পাঞ্জাবের বিরোধী দলনেতা বাজওয়া, কেজরিওয়ালকে তার পাঞ্জাব নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন যে  যেখানে তিনি ধানের খড় পোড়ানো এড়াতে কৃষকদের নগদ ইন্সেন্টিভ দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান এবং দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল শস্যের অবশিষ্টাংশ না পোড়ানোর জন্য পূর্ব প্রতিশ্রুতি থেকে হাত ধুয়ে ফেলে কৃষকদের ২৫০০ টাকা নগদ ইন্সেন্টিভ দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে পাঞ্জাবের পরিবেশের স্বার্থে আপ সরকারের বিজ্ঞাপন বাজেটের সাথে আপোস করা উচিত ছিল।

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

গুজরাটে রসুনের বাজারদরে ধস, প্রতিবাদে চাষিদের বিনামূল্যে রসুন বিতরণ

বিজেপির কৃষক বিরোধী নীতির ফলে চাষিদের অবস্থা ক্রমশই খারাপ হচ্ছে। কেন্দ্রের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যেও  কৃষকদের অবস্থা খুবই সংকটে। এবার বিজেপি শাসিত  গুজরাতে খোলা বাজারে রসুনের মূল্য হ্রাস পাওয়ার কারণে কৃষকেরা অভিনব প্রতিবাদে শামিল হলেন। তাঁরা দরিদ্রদের মধ্যে রসুন বিতরণের সিদ্ধান্ত নিলেন। গত শনিবার গুজরাত কিষাণ সংগঠন গান্ধিনগরে ৪০০০ রসুন বিতরণ করলেন।

গুজরাত কিষাণ সংগঠনের রাজ্য সভাপতি গজেন্দ্র সিংহ জালা বলেন, প্রতি একর রসুনের উৎপাদন খরচ ৩৭১০০ টাকা এবং প্রতি একর রসুনের ফলন ৩০০০ কিলোগ্রাম। আজ, ২০ কেজি রসুনের বাজারের দাম কমেছে ১৫০ টাকা। তাই, এক একর জমিতে ফসলের জন্য কৃষক খুব কম ২২.৫০ টাকা উপার্জন করছেন। তিনি আরো বলেন, এই মৌসুমে কৃষকরা ভালো দাম না পেলে ডিসেম্বরে চাষাবাদ তুলনামূলকভাবে কম হবে, এতে আগামী বছর ঘাটতি দেখা দেবে ও অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি হবে।

সূত্র- দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ভর্তুকিতে বিলম্ব, চাষিরা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়াতে বাধ্য হচ্ছেন

ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানো বন্ধ করতে পাঞ্জাবের রাজ্য সরকারের খড় ব্যবস্থাপনার যন্ত্রপাতির জন্য উচ্চ ইনপুট খরচ সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা, প্রশিক্ষণের অভাব এবং ভর্তুকি বিতরণে বিলম্ব – এই কারণগুলির জন্যে  খড় পোড়ানোর বিরুদ্ধে অভিযান প্রত্যাশিত ফলাফল আসছে না। পাঞ্জাব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্যই উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ কৃষক সচেতন ছিলেন যে ধানের খড় পোড়ানোর ফলে বায়ুর গুণমান খারাপ হয় এবং ধোঁয়াশার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। খড় পোড়ানোর ফলে শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা বাড়া এবং রোগাক্রান্ত ব্যক্তি, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী মহিলা এবং শিশুদের কষ্ট হয় এ বিষয়েও বেশিরভাগ কৃষক (৮৪ -৯২ শতাংশ) সহমত ছিলেন।

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *