জয় কিষাণ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২২

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 7

কৃষিঋণে জর্জরিত কৃষকের মৃত্যু, ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চাষিদের বিক্ষোভ

ঋণ আদায়ের সময়ে হেনস্থার শিকার হয়ে বিক্ষোভে নামলেন কোচবিহার জেলা আলু, পাট, ধান চাষি সংগ্রাম কমিটির সদস্যরা। গত বুধবার বিকেলে নিশিগঞ্জ বাজারে তাঁরা ব্যাংকের কৃষি ঋণ আদায়ের নোটিশ পোড়ানোর মাধ্যমে এই বিক্ষোভ দেখান।

এই সংগঠনের দাবি, নিশিগঞ্জ রুনিবাড়ির এক কৃষক নুরুল মিয়াঁ ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক থেকে তাঁর নামে মামলা করা হয়। মামলা দায়ের হলে মানসিক অবসাদের কারণে হৃদরোগে মৃত্যু হয় ওই কৃষকের। তাঁরা প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও লকডাউনে ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মকুবের দাবি ও সারের কালোবাজারি বন্ধের দাবি করেন। নিশিগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ এই বিক্ষোভ তুলে দেয়।

সূত্র – উত্তরবঙ্গ সংবাদ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কৃষক বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হতে চলেছে মহীশূরে

আগামী ১৭ ডিসেম্বর কেন্দ্র ও কর্ণাটক সরকারের কৃষক বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবেন মহীশূরের চাষিরা। সোমবার পাথরকতারা ভবনে রাজ্য রাইথা সংঘ এবং হাসিরু সেনের নেতা বিদ্যাসাগর একটি সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রতিবাদের কথা ঘোষণা করলেন।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার উভয়ই কৃষকদের উপেক্ষা করছে এবং তাঁদের সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হচ্ছে। পাশাপাশি মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সরকার তাঁদের বিভ্রান্ত করছে। আগামী ১৭ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় গান হাউস সার্কেল থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল বের করা হবে, যা নিউ সায়াজি রাও রোড, সন্থেপেট, দেবরাজ উরস রোড হয়ে জেলা প্রশাসকের অফিসে যাবে। জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করা হবে।

তাঁদের দাবি, কৃষকদের ন্যায্য পারিশ্রমিক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। আখের জন্য প্রতি টন ৪,৫০০ টাকা করে দিতে হবে। রাজ্যে ধান কাটা শুরু হওয়ার পর থেকে ধান ক্রয় কেন্দ্র খুলতে হবে। প্রতি লিটার দুধে ৪৫ টাকা দিতে হবে। বন্য প্রাণীদের দ্বারা নিহত ব্যক্তির পরিবারের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ভেড়া ও ছাগলের মতো প্রাণীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ২০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। গরু, মহিষ এবং ষাঁড়ের মতো প্রাণীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। কৃষকদের কৃষি পাম্প-সেটের জন্য মিটার নির্ধারণ করা যাবে না। পাশাপাশি বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগের জন্য মিটার নির্ধারণ বন্ধ করতে হবে।

সূত্র – স্টোরি অফ মাইসোর

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

চণ্ডীগড়ে কৃষকদের টোল প্লাজা অবরোধ এখনও অব্যাহত

বৃহস্পতিবার কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির ব্যানারে কৃষকরা তাঁদের দাবি উপেক্ষা করার জন্য পাঞ্জাব এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ তীব্রতর করেছে। কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটি গত ১৯ দিন ধরে পাঞ্জাবের সমস্ত ডিসি অফিসের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। তাঁদের অভিযোগ, এরপরেও কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবিতে কোনো কর্ণপাত করেনি।

উল্লেখ্য, কৃষক সংগঠনগুলির কর্মসূচি অনুযায়ী তাঁরা রাজ্যের ১১টি জেলার ১৮টি টোল প্লাজায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করবেন। টোল প্লাজা বন্ধ রাখার বিষয়ে তথ্য দিয়ে কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, “সরকার এখন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটছে”। সেপ্টেম্বর মাসে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “৬৩৪ জন শহিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের ক্ষতিপূরণ এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়ার বিষয়টি এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে”।

সূত্র – পিটিসি নিউজ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

মহারাষ্ট্রে সরকারি বিমা সংস্থার থেকে কৃষকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ বকেয়া

মহারাষ্ট্রের সরকারি বিমা সংস্থা থেকে সর্বমোট ৫১৬.৩৪ কোটি টাকা কৃষকদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ বাবদ বকেয়া রয়েছে। সারা দেশের সঙ্গে সঙ্গে মহারাষ্ট্রের কৃষকদের অবস্থা খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে। অথচ বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকার এখনও উদাসীন। কেন্দ্র-রাজ্য উভয়ের জাঁতাকলে পড়ে কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠেছে।

মহারাষ্ট্রে চলতি বছরে কখনও ভারী বৃষ্টি কখনও অনাবৃষ্টির ফলে কৃষকরা ফসল চাষে বিপুল ক্ষতির সম্মুখীন হন। অনুসন্ধান করে দেখা যায়, দুটি সরকারি বিমা কোম্পানি থেকে কৃষকদের ৩১৫.২৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। কৃষকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধে বিলম্ব সম্বন্ধে আধিকারিকদের বক্তব্য, প্রযুক্তিগত কারণে কোম্পানির সমীক্ষা প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন অসঙ্গতি দেখা গেছে। উল্লেখ্য, সমীক্ষা যথাসময়ে পরিচালিত হয়েছে এবং কৃষি কমিশনার সময়মতো ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের বিষয়ে বারবার নজরদারি করা সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কৃষকদের কোনও অর্থনৈতিক সুরাহা হয়নি।

সূত্র – দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

বেকারত্ব ও কৃষক ইস্যুতে মুখোমুখি রঘুরাম রাজন এবং রাহুল গান্ধি

ভারত জোড়ো যাত্রায় বুধবার রাজস্থানে রাহুল গান্ধির সঙ্গে পা মেলালেন রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন। পদযাত্রার পরে রঘুরাম রাজন এবং রাহুল গান্ধি একটি খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন। ঐ আলোচনায় ভারতের অর্থনীতি, বেকারত্ব, কৃষকদের সমস্যা-সহ নানা বিষয় উঠে আসে। রঘুরাম রাজন বলেন, “ধনীরা আরও ধনী হচ্ছেন, গরিবরা আরও গরিব। এটি একটি বড় সমস্যা। শুধুমাত্র চার-পাঁচজন শিল্পপতি নয়, উচ্চ-মধ্যবিত্তের আয়ও বেড়েছে। অতিমারীর সময় যখন নিম্ন মধ্যবিত্তদের কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তখন তাঁরা তাদের মজুরি পাননি”।

রঘুরাম রাজনের আরও বক্তব্য, কোভিড অতিমারীতে নিম্ন মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। দরিদ্ররা সরকারের কাছ থেকে কিছু সুবিধা পেয়েছেন আর উচ্চ শ্রেণি মহামারীতে প্রভাবিত হয়নি। শুধুমাত্র নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণি বড় সমস্যায় পড়েছিল। তাঁরা চাকরি হারিয়েছেন, তাঁদের মাথায় ঋণের বোঝা চেপেছে। এই অবস্থায় নিম্ন-মধ্যবিত্তদের সুবিধার জন্য নীতি প্রণয়ন করতে তিনি কেন্দ্রের কাছে দাবি করেন।

এই আলোচনায় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রাক্তন গভর্নর বেকারত্বকে দেশের অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। বেকারত্বের প্রধান কারণ হিসেবে দেশের যুবক-যুবতীর সামাজিক নিরাপত্তার জন্য শুধু সরকারি চাকরি পাওয়ার ইচ্ছেকে দায়ী করলেও তাঁর মতে সরকারি চাকরিপ্রার্থীরা বছরের পর বছর ধরে প্রস্তুতি নেন, পরীক্ষায় অংশ নেন এবং খুব কম লোকই নির্বাচিত হন। এই কারণেই তিনি মনে করেন দেশের প্রাইভেট সেক্টর বাড়ানো উচিত। তার ফলে আরও বেশি বেশি করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

সূত্র – ইন্ডিয়া টুডে

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

জলাশয়ে বার্ষিক ডিসিলটিং করার দাবি তুললেন তামিলনাডুর চাষিরা

তামিলনাডুর জলাশয়গুলির অবস্থা ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। ফলত চাষের কাজে যা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, সেই জল চাষিরা পাচ্ছেন না। এমনকী বর্ষাতেও সেখানকার বেশিরভাগ জলাশয়গুলি জলধারণের পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছয় না। বাধ্য হয়ে কৃষকরা রাজ্য সরকারের কাছে জলাশয়ের বার্ষিক ডিসিলটিং করার দাবি জানালেন।

কাবেরি ডেল্টা ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের আর. ইলাঙ্গোভান এবং পি এস সেলভারাজ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “প্রবল বৃষ্টির মধ্যেও রাজ্যের বেশিরভাগ জলাশয় জলধারণের পূর্ণ ক্ষমতায় পৌঁছয়নি, তার কারণ জলাশয় থেকে ময়লা ফেলা হচ্ছে না৷ আরেকটি প্রধান সমস্যা জলাশয়ের ওপর অবৈধ দখল যার দ্রুত সমাধান করতে হবে এবং রাজ্য সরকারকে অবশ্যই কঠিন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে”।

তামিলনাড়ু রাজ্যে ক্ষমতাসীন ডিএমকে তার নির্বাচনী ইশতেহারে ভূগর্ভস্থ জলের সঞ্চয় বাড়ানোর জন্য আগামী ১০ বছরে তামিলনাডু জুড়ে ১০০০ চেক ড্যাম এবং বাঁধ নির্মাণের ঘোষণা করেছিল। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে রাজ্যের জলসম্পদ বিভাগের এক প্রবীণ আধিকারিক বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা চেক ড্যাম নির্মাণ শুরু করেছি। তবে এর জন্য আমাদের আরও তহবিল দরকার এবং রাজ্য সরকারের কাছে একটি প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে”।

সূত্র – বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কৃষকের থেকে লুট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২২

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *