জয় কিষাণ: ১২ নভেম্বর ২০২২

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 5

ধান সংগ্রহের দাবিতে অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের ডাক কালাহান্ডির চাষিদের

আজ সকালে ধান সংগ্রহের দাবিতে ওড়িশার কালাহান্ডি জেলার গাজাবাহল গ্রামের মদনপুর-বোলাগির রাস্তা স্থানীয় কৃষকরা অবরোধ শুরু করেন। তাঁরা অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটেরও ডাক দেন। তাঁদের দাবি গাজাবাহলে নতুন ধান সংগ্রহের বাজার খুলতে হবে। এই দাবি না মেটা পর্যন্ত তাঁরা রাস্তা অবরোধ অব্যাহত রাখবেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, জেলা প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে এই বছরের খরিফ ধান সংগ্রহের জন্য ২৫ নভেম্বর থেকে ধানের বাজারগুলি খোলা থাকবে। জেলায় ২০৮টি বাজার খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

এই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে, গাজাবাহল গ্রামবাসীরা তাঁদের পঞ্চায়েতে একটি বাজার খোলার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেছেন। যাতে সমস্ত কৃষক তাদের ধান সরকারি দামে বিক্রি করতে পারেন। আন্দোলনকারী এক গ্রামবাসী বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পঞ্চায়েতে একটি বাজার খোলার দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ধর্মঘট এবং রাস্তা অবরোধ প্রত্যাহার করব না”।

পুলিশ অবরোধের স্থানে পৌঁছেছে এবং কৃষকদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা চালাচ্ছে।

সূত্র- আরগাস নিউজ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

আজমগড়ের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলন যোগী সরকারের পতনের কারণ হতে পারে

“গাঁও ছোড়াব নেহি, জঙ্গল ছোড়াব নেহি…” এই গানটি একসময় প্রান্তিক মানুষের কথা ভাবা সকল লোকের হৃদয়ে দোলা দিয়েছিল। এই গানের প্রাসঙ্গিকতা বর্তমান সময়ে কেন্দ্র সহ বিজেপি শাসিত সকল রাজ্যের চাষিদের কাছে আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। এবার ঐ গানের প্রাসঙ্গিকতার ক্ষেত্রে নতুন সংযোজন উত্তরপ্রদেশের আজমগড় জেলার জামুয়া হরিরাম গ্রাম।

তথাকথিত ‘উন্নয়ন’-এর শিকার ঐ অঞ্চলের সাধারণ চাষিরা। যাঁরা কিনা অনগ্রসর শ্রেণির পরিচয় বহন করে চলেছেন। বিজেপি সরকার জোর করে তাঁদের চাষযোগ্য জমি কেড়ে নিয়ে সেখানে বিমানবন্দর তৈরি করতে চাইছে। কিন্তু চাষিরা জোটবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদে নেমেছেন। তাঁদের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তাঁদের থাকা খাওয়ার সমস্যা হবে। ভারতে চাষিদের অবস্থা এমনিতেই দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে তার মধ্যে এই প্রকল্পের ফলে তাঁদের বেঁচে থাকাই একপ্রকার অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। দেশের ইউনিয়ন সরকারের সাধারণ প্রান্তিক মানুষের জন্য কোনো মাথাব্যথা নেই। আর তাই উত্তরপ্রদেশের কৃষকরা দলে দলে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। সাধারণ কৃষকদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের কর্মীরা আসতে আসতে এই আন্দোলনে যোগ দিয়ে আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ততা ধরে রাখতে সচেষ্ট হয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত এবং গণ আন্দোলন কর্মী মেধা পাটেকর এই আন্দোলনে তাঁদের সংহতির কথা প্রকাশ্য সভা থেকে ঘোষণা করেছেন।

মনে করা যেতে পারে ২০০৬-০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গেও তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার শিল্পের জন্য সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে কৃষকদের থেকে বলপূর্বক জমি অধিগ্রহণের কথা ঘোষণা করে। সেই সময় প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে সমস্ত স্তরের রাজ্যবাসী। চাষযোগ্য জমি অধিগ্রহণে শুধু কৃষকরাই নন পরিবেশ বাস্তুতন্ত্রের ওপরও এর ব্যাপক কু-প্রভাব পড়ে। এই কৃষিজমি বাঁচাও আন্দোলনের ফলে ২০১১-তে  ৩৪ বছরের বাম শাসন অস্তমিত হয়। তাই প্রশ্ন থেকেই যায় উত্তরপ্রদেশের এই আন্দোলন যোগী সরকারকে পতনের দিকে ঠেলে দেবে না তো?
  

হিমঘরে আলুর দাম মুখ থুবড়ে পড়েছে, বেহাল গ্রামীণ অর্থনীতি

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কৃষক বিরোধী অবস্থানে বিপাকে আলু চাষিরা। আলু তোলার সময় হিমঘরে আলুর প্যাকেট প্রতি দাম ছিল ৭৫০-৮০০ টাকা। এখন হিমঘরে আলুর প্যাকেট প্রতি দাম এসে দাঁড়িয়েছে ২০০-২৫০ টাকা। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কোনও উদ্যোগ এখনও চোখে পড়েনি। পশ্চিমবঙ্গের আলুচাষিরা দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, চাষিরা বলছেন এবারের নিম্নচাপ সিত্রাং নিয়ে যেভাবে প্রচার চলেছিল তাতে অনেক চাষি সরকারের এই সতর্কতায় একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন যে নিম্নচাপ আসছেই। ব্যবসায়ীরাও আলু নিয়ে স্বস্তিতে ছিলেন। এর কারণ হিসেবে অনুমান করা যাচ্ছে, নিম্নচাপ এলে আলুর বীজ বপন করার সময় পিছিয়ে যেত, আলু উঠতে দেরি হত। ভিন রাজ্যে আলু যেত ফলত আলুর দাম বাড়ত। ঐ সময় আলুর দাম বাড়ার আশায় কেউ স্টোর থেকে আলুর বন্ড পর্যন্ত বিক্রি করেননি। কিন্তু ঘূর্ণীঝড় সিত্রাং পশ্চিমবঙ্গে কোনো প্রভাব না ফেলায় মাথায় হাত পড়েছে আলু চাষিদের।  

সূত্র- আরামবাগ পত্রিকা

আরও খবর

ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে কর্ণাটকে সুপারি চাষির আত্মহত্যা

বৃহস্পতিবার কর্ণাটকের চিক্কামাগালুরু জেলার শ্রীনগেরি তালুকের তেক্কুরে এক কৃষকের আত্মহত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। মৃত কৃষকের নাম অভিলাস (৩৬)। সূত্রের খবর, মৃত কৃষক সুপারি চাষের জন্য সমবায় সমিতি থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা ধার করেছিলেন। তিনি তাঁর সঞ্চয় এবং সেই ধার করা অর্থ দিয়ে দেড় একর জমিতে সুপারি বীজ বপন করেন। কিন্তু কীটের আক্রমণে তাঁর ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ফলত ঋণ পরিশোধের কোনও আশা নেই দেখে তিনি অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়েন এবং আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য মৃতদেহটি নিয়ে গিয়েছে।

সূত্র- দ্য হিন্দু

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *