জয় কিষাণ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 5

পাঞ্জাবে চলছে কৃষক ধর্মঘট

পাঞ্জাবের ফিরোজপুরে কৃষকদের ধর্মঘট সোমবার অষ্টম দিনে পড়ল। মনসুরওয়ালার বিক্ষোভকারীরা ইথানল প্ল্যান্টের সামনে একটি ধর্না গত ৮ দিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। অন্যদিকে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ফিরোজপুরের কৃষকরা জেলা প্রশাসনিক দফতরের (ডিএসি) বাইরে আরেকটি বিক্ষোভ শুরু করেছেন।

ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার কাছে সরকারি জমিতে টালি লাগানো ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে কৃষকরা গত সপ্তাহ থেকে অনশনে বসেছেন। এখনও পর্যন্ত প্রশাসন কোনও সমাধান সূত্র বের করতে পারেনি।

সূত্র – দ্য ট্রিবিউন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হুগলির ভোতর গ্রামে কৃষকদের ব্যাপক বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার জয় কিষাণ আন্দোলনের হুগলি জেলা ইউনিটের উদ্যোগে ধনেখালি ব্লকের ভোতর গ্রামে নদী দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হল। জনসভায় বক্তব্য রাখেন জয় কিষাণ আন্দোলনের সর্বভারতীয় সভাপতি অভীক সাহা, হুগলি জেলা সভাপতি সুশান্ত কাঁড়ি, স্বরাজ ইন্ডিয়ার জাতীয় পরিষদের সদস্য ভোলা যাদব, রাজ্য সম্পাদক রাম বচ্চন, রাজ্য কোষাধ্যক্ষ ডাঃ রত্না পাল এবং অন্যান্য নেতৃবর্গ।

ধনেখালি ব্লকে নদী দূষণের ফলে ওই অঞ্চলের চার-পাঁচটি গ্রাম বিপন্ন। নদীর জল স্থানীয় বাসিন্দারা কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারেন না। দূষণের মূল কারণ হল সর্বমঙ্গলা গ্রামের একটি গেঞ্জি কারখানা। এই কারখানা থেকে অ্যাসিডযুক্ত জল নদীতে পড়ে। কারখানার মালিক পরিশোধন না করে বিষাক্ত জল রাতের অন্ধকারে নদীতে ছেড়ে দেন। এছাড়াও পড়াঙ্কুশ, বাসন্তী ও জয়গুরু – এই তিনটি রাইস মিলের জল থেকে দূষণ ছড়ায়। নদী দূষণের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষের জমি। এখানে শীতকালীন ফসল যদিও বা চাষ করা সম্ভব হয়, অন্যান্য ফসল একদমই উৎপাদন করা যায় না। দূষণ রুখতে এলাকার গ্রামবাসীরা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন কিন্তু বিভিন্ন শ্রেণীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য কৃষকদের রুজি রোজগার সুরক্ষিত রাখার দাবি এবং পরিবেশ দূষণ বিরোধী পদক্ষেপ নেওয়া যাচ্ছে না।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার জয় কিষাণ আন্দোলনের প্রতিবাদ সভা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এদিনের জনসভায় প্রায় ৫০০ জন কৃষক ও স্থানীয় জনগণ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন যে অবিলম্বে নদীর দূষণ বন্ধ না হলে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক ও শান্তিপ্রিয় প্রতিবাদের মাধ্যমে গেঞ্জি কারখানা ও রাইস মিলের মালিকদের বাধ্য করা হবে নদী দূষণ বন্ধ করতে।

কর্ণাটকে চাষিদের আন্দোলন অব্যাহত

এআইকেএমকেএস-এর নেতৃত্বে কর্ণাটকের বেল্লারির কৃষকরা গত ১১ মাস ধরে চক্রবৃদ্ধি সুদ ধার্য করা ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রেখেছেন ৷ কর্ণাটকের বহু গ্রামের কৃষকরা বেল্লারিতে কর্ণাটক গ্রামীণ ব্যাঙ্কের হেড অফিসের সামনে অনির্দিষ্টকালের ধর্না ৫৬ দিন ধরে চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিন এআইকেএমকেএস-এর নেতৃত্বে এক বিশাল মোটর সাইকেল র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। কৃষকরা সাফ জানান, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ধর্না চালিয়ে যাবেন।

সূত্র- সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা

বিশদে জানতে ভিডিওটি দেখুন

রসুলপুরে কৃষক বিক্ষোভ

নিজস্ব সংবাদদাতা: বর্ধমানের রসুলপুরে শুক্রবার ফের চাষিরা রাস্তা অবরোধ করলেন। এদিন রসুলপুরে তিরুপতি হিমঘরের সামনে রাস্তায় বসে চাষিরা তাঁদের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। চাষিদের অভিযোগ, গত বছর তিরুপতি হিমঘর কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে গ্যাস লিক হয়ে ১ লক্ষ ১৬ হাজার আলুর প্যাকেট নষ্ট হয়। চাষিরা এখনও পর্যন্ত তাঁদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। এই নিয়ে চাষিদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ জমে আছে।

শুক্রবার চাষিরা তিরুপতি হিমঘরের সামনে এসে জিটি রোড অবরোধ করেন। চাষিদের পক্ষ থেকে ক্রমাগত দাবি করা হতে থাকে যে তাঁদের হিমঘরের পক্ষ থেকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়াও এখন ক্ষেত থেকে আলু ওঠার সময়। তাই তিরুপতি হিমঘর আবার আলু সংরক্ষণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ খবর পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত চাষিরা একজোট হয়ে ঐ হিমঘরের সামনে বাঁশের ব্যারিকেড করেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তা অবরোধ চালিয়ে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ আসে। কিন্তু চাষিরা তাঁদের সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। চাষিরা এর আগেও ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবিতে আন্দোলন করেছিলেন। কৃষকদের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয় তাঁদের ক্ষতিপূরণের টাকা না মেটালে তাঁরা আন্দোলন আরও তীব্র করবেন।

পাঞ্জাবের কৃষকরা বিদ্যুতের স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হলেন

পাঞ্জাব স্টেট পাওয়ার কর্পোরেশন লিমিটেডের আধিকারিকরা এলাকায় কৃষকদের জমিতে স্মার্ট বিদ্যুতের মিটার বসাতে গিয়ে বাধার সম্মুখীন হন। অনেক জায়গায় কৃষকরা মিটার সরিয়ে আন্দোলনের হুমকি দেন।

বিকেইউ নেতা রিংকু মুনক বলেন তাঁরা বিদ্যুতের স্মার্ট মিটার বসাতে দেবেন না। কৃষকদের আরো অভিযোগ, পিএসপিসিএল কর্মকর্তারা দরিদ্র কৃষকদের পরিবারকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন করবার হুমকি দিচ্ছেন। জোর করে স্মার্ট মিটার বসানোর চেষ্টা করছেন। পরবর্তীতে এই স্মার্ট মিটারগুলি প্রি-পেইড মিটারে রূপান্তর করা হবে বলেও আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

সূত্র – দ্য ট্রিবিউন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *