জয় কিষাণ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২২

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 6

তামিলনাডুতে এয়ারপোর্ট নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে চাষিদের প্রতিবাদ

বিমানবন্দরের জন্য পারান্দুর গ্রামে কৃষক উচ্ছেদ করে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব গ্রহণ করেছে তামিলনাডু রাজ্য সরকার। উল্লেখ্য, ১৩টি গ্রামে, প্রকল্পটির জন্য ৪৫৬৩.৫৬ একর পরিমাণ অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে যার মধ্যে ৩২৪৬.৩৮ একর ব্যক্তিগত পাট্টা জমি এবং ১৩১৭.১৮ একর সরকারি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করলে কমপক্ষে ১০০৫ টি পরিবার, যাদের বেশিরভাগই অনগ্রসর শ্রেণি এবং তফসিলি জাতির, বাস্তুচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কৃষকরা একজোট হয়েছেন। কৃষকরা বলেন, বিমানবন্দর প্রকল্পের জন্য তাঁদের জমি সরকারকে হস্তান্তর করতে আগ্রহী নন। রাজ্য সরকারের ‘তথাকথিত উন্নয়নের’ বলি হচ্ছেন কৃষকরা। এর আগেও আমরা দেখেছি ‘উন্নয়নে’র সবচেয়ে বড় বলি হন কৃষকরাই। সেই কারণেই কৃষকরা এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করেছেন। প্রতিবাদের কেন্দ্রস্থল একানাপুরম গ্রামের বাসিন্দা প্রবীণ কৃষক ভেনু বলেন, “আমি মারা গেলেও, আমি আমার জমি থেকে এক মুঠো বালি নিতেও নেব না।” প্রসঙ্গত, ২৩ ডিসেম্বর একনাপুরমে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে কৃষক প্রতিবাদের ১৫০তম দিন ছিল। তামিলনাডু রাজ্য প্রশাসন এই বিক্ষোভকে কড়া নজরদারিতে রাখলেও কৃষকদের সাফ কথা তাঁদের দাবি মানা না হলে তাঁরা আন্দোলন আরও তীব্র করবেন।

সূত্র- দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

ফসল ক্রয়ে বিলম্ব, ওড়িশার চাষিরা বিপাকে

ওড়িশায় প্রশাসনের ধান কেনায় বিলম্বের কারণে গজপতি এবং গঞ্জাম জেলার কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। এই বিলম্বের কারণে কৃষকরা তাঁদের ধান কম দামে অন্ধ্রপ্রদেশের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

গজপতি জেলার গোসানিনুগাঁও এবং কাশিনগরের কৃষকরা বলেন, তাঁরা ক্রয়কেন্দ্র খোলা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবেন না। তাঁদের ধান কাটা হয়ে গেছে। এছাড়া তাঁরা ঋণ নিয়ে চাষ করছেন, ঋণ পরিশোধের সময় হয় গেছে। এই মুহূর্তে ধান ক্রয়ে বিলম্ব হলে তাঁরা বিপাকে পরবেন। তাই তাঁরা ব্যবসায়ীদের কাছে তাঁদের ধান বিক্রি করছেন।

গজপতি জেলা কৃষক সংঘের সভাপতি সূর্য নারায়ণ পট্টনায়েক বলেন, এই দুর্দশার কারণে কৃষকরা প্রতি ৮৩ কেজি ধানের বস্তা ১,১৫০ টাকায় ধান দিচ্ছেন, যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক কম। এছাড়াও এই মাসে ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও নিবন্ধিত কৃষকরা এখনও তাঁদের টোকেন পাননি।

সূত্র- নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হরিয়ানার কার্নালে আখ চাষিদের বিক্ষোভ

রাজ্য সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন বিকেইউ (টিকাইত)-এর নেতৃত্বে কৃষকরা রবিবার হরিয়ানায় চিনিকলের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভকারী কৃষকরা চিনিকলের সামনে এক ঘণ্টার জন্য রাস্তা অবরোধ করেন। তাঁদের দাবি, হরিয়ানা সরকারকে আখের এসএপি বর্তমান ৩৬২ টাকা প্রতি কুইন্টাল থেকে ৪৫০ টাকা প্রতি কুইন্টাল বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যথায় তাঁরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিক্ষোভ শুরু করার হুঁশিয়ারি দেন।

রবিবার হরিয়ানার কর্নালে বিক্ষোভকারী কৃষকরা জেলার তিনটি চিনিকলের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন এবং তাঁদের ট্রাক্টর-ট্রেলার পার্ক করে রাস্তা অবরোধ করেন। বিকেইউ-এর রাজ্য সভাপতি রতন মান বিক্ষোভস্থল থেকে বলেন, “কৃষকরা সরকারকে এক সপ্তাহের চরম সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকার এসএপি বাড়িয়ে প্রতি কুইন্টাল ৪৫০ টাকা করতে ব্যর্থ হলে রাজ্যে অনির্দিষ্টকালের প্রতিবাদ শুরু হবে”।  

সূত্র – হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কর্ণাটকে উপরাষ্ট্রপতির সফরের আগে কৃষকদের প্রতিবাদ

কর্ণাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার গোন্ধল্লির কৃষকরা শনিবার ঈশা যোগ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যুক্ত রাস্তার সম্প্রসারণের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেন। সেরাজ্যের পূর্ত দফতর ১৫ জানুয়ারি চিক্কাবল্লাপুরার আভালাগুরখিভ গ্রামে ঈশা যোগ ফাউন্ডেশনে উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকারের সফরের আগে রাস্তাগুলি প্রসারণ এবং পুনঃস্থাপনের কাজ হাতে নিয়েছে৷

উপ-রাষ্ট্রপতি সফরের আগে পূর্ত আধিকারিকরা জেসিবি এবং হিটাচিস ব্যবহার করে রাস্তা প্রশস্ত করার কাজ শুরু করেন। গোন্ধল্লির কয়েকজন গ্রামবাসী এই রাস্তা সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়ে ধর্না শুরু করেন। পুলিশ তাঁদের জোর করে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। কৃষকদের অভিযোগ, পূর্ত দফতর পরিকল্পনার বাইরে রাস্তা তৈরি করে কৃষকদের জমি নষ্ট করছে। এর প্রতিবাদেই বিক্ষোভ করেছেন চাষিরা। তাঁরা হুঁশিয়ারি দেন, দাবি মানা না হলে তাঁরা আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন।

সূত্র- হিন্দুস্তান টাইমস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

২৬ জানুয়ারি হরিয়ানার জিন্দে আয়োজিত হবে কিষাণ মহাপঞ্চায়েত

নিজস্ব প্রতিবেদন: শনিবার কর্নালে গুরুদুয়ারা ডেরা কর সেবায় সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার জাতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২৬ জানুয়ারি কোনো সরকারি কর্মসূচিতে বাধা না দিয়ে সমস্ত জেলায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর প্রজাতন্ত্র দিবস পালন, ট্রাক্টর র‍্যালি ও সম্মেলন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেদিন জেলা কালেক্টরদের কাছে স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হবে। হরিয়ানার জিন্দে সেদিন বিশাল কিষাণ মহাপঞ্চায়েত আয়োজিত হবে। মার্চ মাসে দিল্লিতে একটি কিষাণ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে, যার তারিখ ঘোষণা করা হবে ২৬ জানুয়ারি জিন্দে।

শনিবার সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার জাতীয় বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে কৃষক ঐক্য শক্তিশালী প্রদর্শনের মাধ্যমে জিন্দে মহাপঞ্চায়েত সংঘটিত হবে এবং ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ঘোষণা করা হবে। মহাপঞ্চায়েত ভারতীয় সংবিধান এবং গণতন্ত্রকে আক্রমণকারী ফ্যাসিবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে একটি দৃঢ় বার্তা পাঠাবে এবং কৃষকদের সমস্যাও উত্থাপন করবে। এদিনের সভায় বিজেপি সরকারের কৃষক বিরোধী অবস্থানের কথা বলা হয় এবং এমএসপির জন্য আইনি গ্যারান্টি দাবি করা হয়। এসকেএম সংসদে বিদ্যুৎ আইন সংশোধনী বিল পেশ করে কৃষকদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার জন্য বিজেপি সরকারের নিন্দা করেছে যা তারা আগে প্রত্যাহার করার আশ্বাস দিয়েছিল। সভায় হরিয়ানার বিজেপি সরকার কর্তৃক কৃষকদের উপর চাপিয়ে দেওয়া গ্রামীণ উন্নয়ন সেস প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।

এসকেএম লখিমপুর খেরির দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং মন্ত্রিসভা থেকে অজয় মিশ্র টেনিকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। জেলবন্দি কৃষকদের মুক্তির দাবি তোলা হয়। এদিনের সভায় কৃষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়। এসকেএম পাঞ্জাবি গায়ক কানওয়ার গ্রেওয়াল এবং রঞ্জিত বাওয়া, যাঁরা দুজনেই কৃষক আন্দোলনকে সমর্থন করেছিলেন, তাঁদের ওপর কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং আইটি বিভাগের অভিযানের নিন্দা করে। এসকেএম সারা দেশে কৃষকদের সংগ্রামে সংহতি প্রকাশ করে।

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *