জয় কিষাণ: ১৮ মার্চ ২০২৩

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 5

দাবি মানার আশ্বাস, মহারাষ্ট্রের কৃষকদের লং মার্চ আপাতত স্থগিত

কৃষক এবং দলিতদের ক্ষোভ খানিকটা প্রশমন করতে সক্ষম হল মহারাষ্ট্র সরকার। বৃহস্পতিবার কৃষক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তাঁদের ১৭ দফা দাবিই কার্যত মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মহারাষ্ট্রের একনাথ শিণ্ডে সরকার। সরকারের প্রতিশ্রুতি পাওয়ার পর কৃষক নেতারা আপাতত মিছিল নিয়ে মুম্বইয়ে ঢোকার পরিকল্পনা ত্যাগ করেছেন বলে খবর।

আসলে দিন কয়েক আগেই মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন শুরু করেন হাজার হাজার কৃষক ও দলিত। সিপিএমের কৃষক সংগঠন অল ইন্ডিয়া কিষাণ সভার ব্যানারে মোট ১৭ দফা দাবিতে নাসিক থেকে মুম্বইয়ের উদ্দেশে হাঁটা শুরু করেন হাজার হাজার কৃষক।

মার্চের চড়া রোদ গায়ে মেখে, পায়ে হেঁটে লাল ঝান্ডা হাতে অন্নদাতাদের সেই মিছিল ফের নাগরিক সমাজের সমবেদনা কুড়োতে শুরু করেছিল। বিরোধীরাও কৃষকদের পাশে দাঁড়ান।

সূত্র- সংবাদ প্রতিদিন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

তৃণমূলীদের অপচেষ্টা রুখলেন খেতমজুররা

নিজস্ব সংবাদদাতা: পাট্টা জমি থেকে গরিব আদিবাসী খেতমজুর পরিবারকে উচ্ছেদ করার তৃণমূলের অপচেষ্টাকে রুখে দিল এলাকার খেতমজুর ও গ্রামবাসীরা। ২৩ বছর আগে বামফ্রন্ট আমলে মান্দাড়া মৌজায় ১৮ শতক জমির পাট্টা পেয়েছিলেন ধনিয়াখালির মান্দাড়া পঞ্চায়েতের বাসিন্দা খেতমজুর হপ্না মাণ্ডি ও তাঁর স্ত্রী সুন্দরী মাণ্ডি।

কয়েক বছর আগে হপ্না মাণ্ডির মৃত্যু হলেও স্ত্রী সুন্দরী মাণ্ডি এবং তাঁর পুত্র উপেন মাণ্ডি রয়েছেন। অভিযোগ, দক্ষিণ মান্দাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুন্দরী মাণ্ডি, ও তার পুত্র উপেন মাণ্ডিকে বিভিন্ন রকমভাবে অত্যাচার চালিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে তাঁদের ওই জমি কেড়ে নিতে উঠেপড়ে লাগে তৃণমূলের বাহিনী। তাদের মদত দেন পঞ্চায়েত প্রধান ইলিয়াস মণ্ডল।

এদিকে, কয়েকদিন ধরে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ লালটু ও তার বাহিনী জমির দখল নেওয়ার চেষ্টা করে। পাট্টাদারকে বিভিন্নভাবে হেনস্থা করে। হুমকি দেওয়া হয় জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য। এমনকি তৃণমূলের অফিসে ডেকেও হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘জমি ছেড়ে দাও হাসপাতাল হবে’।

বৃহস্পতিবার খেতমজুর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে ওই এলাকার খেতমজুর সহ বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত হয়ে তৃণমূলের অত্যাচারের কথা শোনান। এরপর মিছিল ও সভা হয়। শেষে এলাকার বহু সাধারণ মানুষ ও খেতমজুররা গিয়ে ওই নির্দিষ্ট জমিতে লাল ঝান্ডা লাগিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন।

কৃষক-খেতমজুরদের বিক্ষোভ সভা

নিজস্ব সংবাদদাতা: পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরার শিক্ষক লক্ষ্মীরাম টুডুকে খুনের বিরুদ্ধে ধিক্কার জানিয়ে বৃহস্পতিবার কৃষক ও খেতমজুর ইউনিয়ন সহ বামপন্থী গণসংগঠনগুলির উদ্যোগে হুগলীর কামারপুকুর কলেজ মোড়ে একটি আদিবাসীপাড়া সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ সভা হয়।

সভা থেকে দাবি ওঠে, অভিযুক্ত তৃণমূল দুষ্কৃতীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। সভায় বক্তব্য রাখেন দেবু চ্যাটার্জি, তিলক ঘোষ, সুজিত রায় ও সুভাষ বৈরাগী। উপস্থিত ছিলেন নারায়ণ ধাড়া, তারাপদ সেনগুপ্ত, বিকাশ মুখার্জি, শ্রীকান্ত চক্রবর্তী, শিক্ষক বিপত্তারন পণ্ডিত প্রমুখ।

শিলাবৃষ্টিতে বড় ক্ষতি চা বাগানে

নিজস্ব সংবাদদাতা: বুধবার বিকালের বৃষ্টির মাত্রা ও শিলাবৃষ্টির পরিমাণগত প্রভাব উত্তরবঙ্গের চা বাগানগুলিতে একদিকে খুশি ও অন্যদিকে চিন্তার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এই সময়েই চা বাগানগুলিতে ফার্স্ট ফ্লাশিং-এর সময়। এই সময়কালে হালকা বৃষ্টি চা বাগানে খুশির পরিবেশ এনে দেয়। কিন্তু শিলাবৃষ্টি গড়ে দেয় পার্থক্য।

চা বিশেষজ্ঞ রামঅবতার শর্মা বৃহস্পতিবার বলেন, বুধবারের শিলাবৃষ্টি চা বাগানগুলিতে ভাল ক্ষতি করেছে। সামগ্রিকভাবে ডুয়ার্সের চা বাগানগুলি একটা ক্ষতির মধ্য দিয়ে গেল। এখন কচি পাতার ফার্স্ট ফ্লাশিং এর সময়। চা-কুঁড়িগুলি এই শিলাবৃষ্টির ফলে ফেটে যাওয়ায় বড় ক্ষতি হল। তাছাড়া চা গাছের শরীরে যে আবরণ থাকে তা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চা গাছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। এর ফলে মার খায় উৎপাদন। চা বাগানের এই আর্থিক ক্ষতির উপরে দ্বিতীয় ফ্লাশ আসতে কম করে একমাস পিছিয়ে গেল। এই ক্ষতি সামাল দিতে গেলে চা উৎপাদন খরচা বেড়ে যাচ্ছে। তবে বেশ কিছু চা বাগানে বৃষ্টির সঙ্গে হালকা সহনশীল শিলাবৃষ্টি সেরকম কোনও ক্ষতি করতে পারেনি। প্রথম ফ্লাশিং-এ আঘাত আসেনি। এই শিলাবৃষ্টিতে চা বাগানগুলির কত ক্ষতি হল, সেই হিসাব করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ধসা রোগে নষ্ট করলা-ঝিঙ্গে গাছ, বিপাকে কৃষকরা

নিজস্ব সংবাদদাতা: করলা-ঝিঙের গাছে ধসা রোগ দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পূর্বস্থলীর কৃষকরা। মাঠের পর মাঠ গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। ফলে কৃষকদের মাথায় হাত। বাংলার ভাতঘর বলে খ্যাত পূর্ব বর্ধমান জেলার অন্তর্গত কৃষিপ্রধান মহকুমার মধ্যে অন্যতম কালনা। এই মহকুমার পাঁচটি ব্লকই কৃষিতে সমৃদ্ধ। তবে পূর্বস্থলী ২ নম্বর ব্লক কৃষিতে বৈচিত্র এনেছে। এই ব্লকে চিরাচরিত ধান, পাট চাষকে কমিয়ে ফলের গাছ, সবজি ও ফুল নার্সারির দিকে ঝুঁকেছে এখানকার মানুষ।

পূর্বস্থলী দুই ব্লকের ধীতপুর, শুমুরিয়া, কুবাজপুর, বদসা প্রভৃতি গ্রামে বিকল্প চাষ হিসাবে ব্যাপক সবজি চাষ হয়। তাতে এই এলাকার কৃষকরা শুধু আর্থিকভাবেই উন্নতি করেনি, পাশাপাশি এই বিকল্প ভাবনায় বহু মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। কিন্তু সেই বিকল্প ভাবনায়ও বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষতির মুখে। হঠাৎ কয়েকদিন আগে করলা ও ঝিঙে গাছ হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের অভিযোগ ধসা রোগের ওষুধ স্প্রে করেও কোনও ফল হচ্ছে না।

কৃষকের থেকে লুট: ১৬ মার্চ ২০২৩

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *