জয় কিষাণ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৩

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 9

মহারাষ্ট্রে কৃষকদের আত্মহত্যা ক্রমশ বাড়ছে

সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে ২০২২ সালে মহারাষ্ট্রের মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে ১০২৩ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। আগের বছরে ঐ অঞ্চলে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা ছিল ৮৮৭টি। ২০০১ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে সর্বাধিক ৩৭৯ জন কৃষকের আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে। তথ্য অনুযায়ী ২০১১ থেকে ২০২০ সময়কালের মধ্যে কৃষক আত্মহত্যার (১১৩৩ জন) সর্বোচ্চ সংখ্যা রেকর্ড করা হয়েছে।

এই অঞ্চলে গত কয়েক বছরের মধ্যে কিছু বছরে অতিবৃষ্টি এবং অন্য বছরগুলিতে খরার মতো পরিস্থিতি দেখা গেছে, যা কৃষকদের জন্য ফসল তোলা আরও কঠিন করে তুলেছে। জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ ছাড়াও, এলাকার সেচ ব্যবস্থাকে তার পূর্ণ সম্ভাবনার কাজে লাগানো হচ্ছে না। কৃষকদের এই করুণ পরিনতির জন্য রাজ্যে বিজেপি শাসিত সরকার দায়ী বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্র ও রাজ্যের উভয় সরকারই কৃষক-বিরোধী এ কথা বলাই বাহুল্য। কৃষকদের এই আত্মহত্যার পরিসংখ্যান সামনে আসার পর ভারতে কৃষকদের ভয়াবহ বিপন্নতার খবর আরও একবার প্রকাশ্যে এল।

সূত্র- কৃষি জাগরণ

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

বাঁকুড়ার মানাচরে চাষিদের ট্রাক্টর র‍্যালি

নিজস্ব সংবাদদাতা: সোমবার জয় কিষাণ আন্দোলনের বাঁকুড়া জেলা ইউনিটের উদ্যোগে মানাচরে স্থানীয় দাবি আদায়ের জন্য এক কৃষক ট্রাক্টর র‍্যালি আয়োজিত হয়। উপস্থিত ছিলেন জয় কিষাণ আন্দোলনের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ননী রায় ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

জয় কিষাণ আন্দোলনের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ননী রায় বলেন: “মানাচরের কৃষক ও সাধারণ গ্রামীণ মানুষদের সরকারি পরিষেবা পেতে সড়ক পথে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। নৌকাপথে দামোদর নদী পেরতে প্রায় ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এতে সারা দিন চলে যায়। প্রশাসনের কাছে বারংবার আবেদন করা সত্ত্বেও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই দাবি আদায়ের জন্য মানাচরে জয় কিষাণ আন্দোলনের কৃষক ট্রাক্টর র‍্যালির আয়োজন করেছে। প্রায় ৬০টি ট্রাক্টর নিয়ে মোট ১৮ কিলোমিটার জুড়ে স্থানীয় রাস্তা এবং রাজ্য সড়কের কিছুটা অংশ ঘিরে দেওয়া হয়। প্রশাসনের উদ্দেশ্যে কৃষকরা জানান, এটাই শেষ হুঁশিয়ারি। উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এরপর রাস্তা অবরোধ করবেন কৃষকরা। ভোট যায় ভোট আসে, নেতারা ঘুমায় নাকে সর্ষের তেল দিয়ে। তাই জনগণ এই র‍্যালি করলেন প্রশাসনকে সজাগ করতে।”

পাঞ্জাবে কৃষক সংগঠনগুলির রেল ও রাস্তা রোকো কর্মসূচি

পাঞ্জাবের পেন্ডু মজদুর ইউনিয়ন জলন্ধরের মালিয়ান গ্রামে শ্রমিকদের অধিকারের দাবিতে এবং লতিফপুরায় বাস্তুচ্যুতদের দাবির সমর্থনে সোমবার ধান্নোওয়ালিতে রেল ও রাস্তা রোকোর কর্মসূচি পালন করে।

আইন অনুযায়ী ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে ১৭.৫ একরের বেশি জমি বণ্টন, দলিতদের পঞ্চায়েত জমির এক তৃতীয়াংশের ব্যবস্থা, অভাবীদের আবাসিক প্লট বরাদ্দ, কৃষকদের সরকারি, সমবায় ও বেসরকারি ঋণ মকুব করা-সহ অন্যান্য দাবিতে কৃষকরা এই রেল ও রাস্তা রোকো কর্মসূচি পালন করেন।

এছাড়াও কৃষক সংগঠনের নেতারা বলেন যে, “ভগবন্ত মান সরকার যে পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতিতে ক্ষমতায় এসেছিল তার পরিবর্তে শাসনের সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ অবলম্বন করছে। লতিফপুরার বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলিকে মালিকানা দেওয়ার পরিবর্তে সরকার তাদের বাড়িঘরে বুলডোজার চালিয়েছে”।

কৃষক সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, লতিফপুরা বাস্তুচ্যুতদেরকে যে এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত করা হয়েছে সেখানেই পুনর্বাসন করতে হবে। তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া উচিত এবং তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারকারী সিনিয়র পুলিশের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সূত্র- দ্য ট্রিবিউন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সন্দীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে কৃষক নেতা বীরেন্দার ডাগরের তীব্র আক্রমণ

রবিবার হরিয়ানার ঝাজ্জার মহাপঞ্চায়েতের মঞ্চ থেকে কৃষক নেতা বীরেন্দার ডাগর যৌন নির্যাতনে অভিযুক্ত সন্দীপ সিংয়ের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের থেকে প্রায় ২০ দিন আগে জানা গেছিল ফতেহপুরের একজন মেয়েকে হরিয়ানার ক্রীড়া মন্ত্রী সন্দীপ সিং দুর্ব্যবহার করে। খুবই দুঃখের ব্যাপার। যে মেয়েটি গ্রাম তথা দেশের জন্য খেলেন এবং মুখ উজ্জ্বল করেন, তাঁর প্রতি এই আচরণ অনভিপ্রেত”।

সূত্র- সবকি খবর

বিশদে জানতে ভিডিওটি দেখুন

কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটি পাঞ্জাবের সমস্ত ধর্না প্রত্যাহার করল

কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটি ৫১ দিন পর অবশেষে পাঞ্জাবের ১৫টি জেলার জেলা প্রশাসকের অফিসের বাইরে থেকে এবং ১৮টি টোল প্লাজায় ধর্না প্রত্যাহার করল। এই ধর্নার কারণে প্রতিদিন ন্যাশানাল হাইওয়ে অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার ১.৩৩ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। ফলে তাঁরা পাঞ্জাব সরকারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ্য, পাঞ্জাবে ডিসি অফিসগুলির বাইরে গত ২৬ নভেম্বর থেকে ধর্না শুরু হয়েছিল। যার মধ্যে ১৮টি টোল প্লাজায় বিক্ষোভ শুরু হয় ১৫ ডিসেম্বর থেকে।

এখনও বহু কৃষক আখ চাষের জন্য বরাদ্দ অর্থ পাননি। রাজ্য সরকার এখনও কৃষকদের দাবিগুলির প্রতি উদাসীন। তাই আগামী ২৬ জানুয়ারি কৃষকদের সংগঠিত করে জেলার বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন চালানো হবে। ২৯ জানুয়ারি রেল রোকো কর্মসূচি পালিত হবে। কৃষকদের সাফ কথা যদিও টোল প্লাজা এবং জেলা প্রশাসকের অফিসের বাইরে ধর্না তুলে নেওয়া হয়েছে কিন্তু তাঁদের দাবিগুলি পূরণ না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবেন।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

জগৎবল্লভপুরে চাষের জমিতে অবাধে চলছে মাটি কাটা

হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বিভিন্ন এলাকায় চাষের জমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে জমির মান আরও খারাপ হচ্ছে। কৃষকরা অভিযোগ তোলেন জমিগুলি আর চাষযোগ্য নয়। অবৈধভাবে মাটি কাটা চলছে। এর পেছনে শাসক দলের মদত রয়েছে।

জমির মাটি কেটে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। জেলা ভূমি দফতর পুলিশকে নির্দেশ দেয় খতিয়ে দেখতে। পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে যাতে অনিয়ন্ত্রিত ভাবে মাটি কাটা বন্ধ হয়। যদিও শাসক দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে গরিব মানুষের ক্ষতি করে কিছু করা যাবে না। সরকারি নিয়ম মেনে মাটি কাটতে হবে।

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

বন্য প্রাণীর আক্রমণ থেকে মানব জীবন ও কৃষিকে রক্ষা করার দাবি

নিজস্ব সংবাদদাতা: সর্বভারতীয় কিষাণ সভা সম্প্রতি দাবি করেছে যে কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারগুলির দায়িত্ব বন্য প্রাণীর আক্রমণের ক্রমবর্ধমান হুমকি থেকে মানুষের জীবন রক্ষা করা। শুক্রবার কেরালার ওয়েনাড জেলার মানানথাওয়াডি তালুকের পুথুসেরি থেকে থমাস (৫০) তাঁর বাড়িতে বাঘের আক্রমণে নিহত হন। এলডিএফ নেতৃত্বাধীন কেরালার রাজ্য সরকার পরিবারের একজন সদস্যকে প্রাথমিক ক্ষতিপূরণ এবং চাকরি হিসেবে ১০ লাখ টাকা প্রদান করেছে। বাঘটিকে ধরে খাঁচায় বন্দি করা হয়েছে। পরিবারের একজন সদস্যের মৃত্যু একটি অপূরণীয় ক্ষতি যা সত্যিকার অর্থে পূরণ করা যায় না। সর্বভারতীয় কিষাণ সভা দাবি করে যে কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত তাদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ এবং কর্মসংস্থানযোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের চাকরি দেওয়া।

বন সংলগ্ন এলাকার কৃষকদের ক্ষতির পরিমাণ অপরিসীম, যেহেতু হাজার হাজার হেক্টর উর্বর জমি বন্য প্রাণীর আতঙ্কের কারণে পতিত হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষ চরম চাপ ও মানসিক যন্ত্রণায় দিনযাপন করছেন। এটি একটি গুরুতর পরিস্থিতি যা অবিলম্বে ত্রাণ এবং ব্যাপক, স্থায়ী সমাধান দাবি করে। তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যপ্রাণীর আক্রমণে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। মহারাষ্ট্রে বাঘ এবং চিতাবাঘের আক্রমণে ২০১৭ সালে ৫৪ জন মারা গিয়েছিলেন এবং ২০২০ সালে তা বেড়ে ৮৮-তে দাঁড়িয়েছে। হাতির আক্রমণে প্রতি বছর ভারত জুড়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৩০০-এর উপরে। ভারতে প্রতি বছর গড়ে ১০০০ জনেরও বেশি মানুষ বন্য প্রাণীর দ্বারা নিহত হন।

ভারতীয় ভূখণ্ডে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক যুগ থেকে আজ অবধি বন সম্পদের শোষণ বন্য প্রাণীদের আক্রমণের একটি বড় কারণ। বনাঞ্চলের গাছগুলিকে রাজস্ব আয়ের জন্য কেটে ফেলা হয়েছিল এবং সেগুন, মেহগনি, ইউক্যালিপটাস, পাইন ইত্যাদি গাছ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল, যা বাণিজ্যিক কাঠের জাত। এই বহিরাগত প্রজাতিগুলি কেবল পরিবেশগত ক্ষতিই করে না, তারা বনগুলিকে স্থানীয় বন্যপ্রাণীদের প্রতিকূল করে তোলে। বন্যপ্রাণীর জন্য বনের অভ্যন্তরে খাদ্য ও জলের অভাব, প্রাণীদের মানুষের আবাসস্থলে প্রবেশ করতে বাধ্য করার এটি একটি বড় কারণ। পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা এবং ত্রুটিপূর্ণ নীতির ফলে কিছু বন্য প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সমস্যাটিকে আরও গভীর করেছে। বানর, বন্য শূকর ইত্যাদির জন্যও বৈজ্ঞানিকভাবে পোকামাকড়ের প্রজাতি ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে বলে এই সংগঠন জানায়।
|
সর্বভারতীয় কিষাণ সভা দাবি করেছে যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বন প্রান্তিক এলাকাগুলি চিহ্নিত করা উচিত, রাজস্ব গ্রাম এবং খামারের জমিগুলি পরিখা বা দেয়ালের সঙ্গে ৪ মিটার উচ্চতার তারের জালের বেড়া তৈরি করে সুরক্ষিত করা উচিত। বেড়ার গড় খরচ হবে ৫০ টাকা। এই কাজটি মহাত্মা গান্ধি ন্যাশন্যাল রুরাল এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি স্কিম (MNREGS) এর অধীনে উপাদান ব্যয় হিসাবে নেওয়া যেতে পারে। বনভূমির মধ্যে বাণিজ্যিক বৃক্ষরোপণ পর্যায়ক্রমে পরিষ্কারভাবে কাটার অধীনে রাখা উচিত এবং প্রাকৃতিক প্রজাতির বন্য গাছপালা দিয়ে প্রতিস্থাপন করা উচিত যাতে বন বন্য প্রাণীদের খাদ্য ও পশুখাদ্য সরবরাহ করতে পারে। এই দুটি পদক্ষেপ এই গুরুতর সমস্যার স্থায়ী সমাধান সহজতর করবে।

সর্বভারতীয় কিষাণ সভা রাজ্য এবং নিম্ন-স্তরের ইউনিটগুলিকে ক্ষতিগ্রস্ত বন-প্রান্তর এলাকায় ব্যাপক প্রচার চালানোর জন্য এবং ওপরের দাবিগুলি নিশ্চিত করার জন্য সংগ্রামের আহ্বান জানিয়েছে।

কৃষকের থেকে লুট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৩

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *