জয় কিষাণ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৩

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 8

জল দূষণের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে কৃষকদের প্রতিবাদ

কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটির (কেএমএসসি) ব্যানারে পাঞ্জাবের কৃষকরা বুধবার তাঁদের আন্দোলনের ৪৬তম দিনে পাঞ্জাব দূষণ নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের (পিপিসিবি) অফিসের বাইরে বিক্ষোভ দেখান। এই বিক্ষোভে জলাশয়ে শিল্প বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়।

পাঞ্জাবের কিষাণ মজদুর সংঘর্ষ কমিটি ডিসি অফিসের বাইরে ২৬ নভেম্বর থেকে বিক্ষোভ জানাচ্ছে। কেএমএসসির নেতারা বলেন, যে সমস্ত শিল্প ইউনিটগুলোর থেকে জলের দূষণ বাড়ছে, সরকারকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ পাঞ্জাব একটি কৃষি প্রধান রাজ্য। সরকারের উচিত কৃষিভিত্তিক শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়া। জল পরিশোধের ব্যবস্থা নিতে হবে। রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মানুষ ভূগর্ভস্থ জলের ওপর নির্ভরশীল।

কেএমএসসির সাধারণ সম্পাদক সারওয়ান সিং পান্ধের বলেন, সরকার বেআইনিভাবে শিল্প ইউনিটগুলোকে সাহায্য করছে। এর বিরুদ্ধে অবিলম্বে জেগে উঠতে হবে। শিশুরা এই দূষিত জল পান করছে। দূষণ বাড়ছে এমন শিল্প স্থাপনের অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।

সূত্র – দ্য ট্রিবিউন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

হরিয়ানায় খাল ভেঙে প্লাবিত গ্রাম, কৃষকের মৃত্যু

শুক্রবার হরিয়ানার রোহতক জেলার ময়না গ্রামে মাইনর ক্যানেল ভেঙে ১০০ একরের বেশি জমিতে জল ঢুকে বিপুল পরিমাণ গম নষ্ট হয়। ভূপ সিং নামের এক কৃষক নিজের ফসল রক্ষা করতে গিয়ে জলের তোড়ে মারা যান। জমিতে ফসল রক্ষার জন্য তিনি নরম মাটি ফেলছিলেন। এই দুর্ঘটনার পর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান ও সর্বভারতীয় কিষাণ সভার স্থানীয় ইউনিট ফসলের ক্ষতিপূরণ চেয়েছে।

সূত্র- দ্য ট্রিবিউন

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

শহিদ কৃষকদের শ্রদ্ধা জানালেন রাকেশ টিকায়েত

মধ্যপ্রদেশের মুলতাই গুলিকাণ্ডে শহিদ কৃষকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বৃহস্পতিবার মুলতাই পৌঁছন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বড় আন্দোলনের কথা ঘোষণা করেন। অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের জন্য কিছুই করেনি।

তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রদেশে বাঁধাকপি চাষিদের সর্বনাশ হয়েছে। কেরালার আদলে মধ্যপ্রদেশে সবজিতে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কার্যকর করা উচিত। কেন্দ্রীয় সরকার মিথ্যাচার করছে এবং কৃষকদের জন্য কোনো কাজ করছে না, তাই দেশের কৃষকরা অসন্তুষ্ট”।

উল্লেখ্য, কৃষক আন্দোলনের ফলে তিনটি কালা কৃষি আইন প্রত্যাহার করা হয়েছে, একইভাবে কৃষকদের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে বৃহৎ আন্দোলনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। যা সারা দেশে বড় পরিসরে করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর আগে কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত পরমণ্ডলে শহিদ কৃষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মুলতাইয়ে শহিদ স্তম্ভ পরিদর্শন করে কৃষকদের স্মরণ করেন।

সূত্র- দৈনিক ভাস্কর

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

পান্ডুয়ার খন্যানে আয়োজিত হল কৃষক সচেতনতা শিবির

নিজস্ব সংবাদদাতা: শনিবার জয় কিষাণ আন্দোলনের হুগলি জেলা ইউনিটের উদ্যোগে পান্ডুয়ার খন্যানে একটি কৃষক সচেতনতা শিবির আয়োজিত হল। উপস্থিত ছিলেন জয় কিষাণ আন্দোলনের হুগলি জেলা সভাপতি সুশান্ত কাঁড়ি-সহ অন্যান্য নেতৃত্ব। সহযোগিতায় ছিল গ্রামীণ কৃষি ও মৌসম সেবা প্রকল্প।

খন্যানের জয় কিষাণ আন্দোলনের অফিসে এই শিবির আয়োজিত হয়। বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহাশ্বেতা ভৌমিক দত্ত (ডিরেক্টরেট অফ রিসার্চ, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী) এবং বিশ্বজিৎ দত্ত (পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন বিভাগের সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার)। উন্নত প্রথায় রঙিন ক্যাপসিকাম, গাঁদাফুল, গ্ল্যাডিউলাস চাষ, ব্রকোলি চাষ, করলা চাষ, ড্রাগন ফলের উৎপাদন কৌশল, বজ্রপাত সংক্রান্ত নিরাপত্তার সতর্কতা, গবাদি পশুর শীতকালীন রোগ ও তার প্রতিকার, পোলট্রি পালন ও খামার ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন এদিনের কৃষক সচেতনতা শিবিরে।

সারা দেশে কৃষকদের অধিকার সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে জয় কিষাণ আন্দোলন। পশ্চিমবঙ্গেও তারা চাষিদের রুটিরুজি, জল-জমি-জঙ্গলের ওপর অধিকার, কৃষি উৎপাদনের ন্যূনতম মূল্য (এমএসপি), ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার লড়াই এবং কর্পোরেট লোভ থেকে খাদ্য উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থাকে বাঁচাতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

হুগলি একটি কৃষিপ্রধান জেলা। এখানকার বেশিরভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। ধান, আলু, পাট ছাড়াও নানা রকম সবজির চাষ এই জেলায় হয়। কৃষকদের ওপরে নানা রকমের জুলুম চলে। এই জেলাতেই ঘটেছিল ঐতিহাসিক সিঙ্গুর আন্দোলন। তারপরেও কৃষকদের জীবনযাত্রার উন্নতি দেখা যায়নি। সরকার এবং বেসরকারি পুঁজি নানাভাবে শোষণ বাড়িয়ে চলেছে। চাষিদের দাবিদাওয়ার লড়াইয়ের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদ বিরোধী বৃহত্তর লড়াইয়ে জয় কিষাণ আন্দোলনের হুগলি জেলা ইউনিট কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের একত্রিত করছে। এই প্রচেষ্টায় গতি সঞ্চার করবে আজকের কৃষক সচেতনতা শিবির।

আলু পচে যাওয়ায় কৃষকদের বিক্ষোভ রসুলপুরে

পূর্ব বর্ধমানের রসুলপুরে তিরুপতি হিমঘরে ২৫টি গ্রামের আলু চাষিদের আলু সংরক্ষিত থাকার পরেও তা পচে নষ্ট হয়েছে। অথচ এই ঘটনায় চাষিরা কোনোরকম ক্ষতিপূরণ পাননি। এরই প্রতিবাদে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতৃত্বে কৃষি সংহতি মঞ্চ রসুলপুর ব্যাপক প্রতিবাদে শামিল হয়।

সেখানে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায়, কৃষকদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে বক্তব্য রাখেন সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার জাতীয় পরিষদের সদস্য এবং জয় কিষাণ আন্দোলনের সর্বভারতীয় সভাপতি অভীক সাহা, কৃষক-ক্ষেতমজুর সংহতি সমিতির নেতৃত্ব সমীর পূততুণ্ড, রসুলপুর কৃষক সংহতি মঞ্চের সভাপতি সদানন্দ মণ্ডল, জয় কিষাণ আন্দোলনের রাজ্য সহ-সভাপতি কল্যাণ সেনগুপ্ত, জয় কিষাণ আন্দোলনের হুগলি জেলা সভাপতি সুশান্ত কাঁড়ি ও জয় কিষাণ আন্দোলনের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি ননী রায়।

এই জনসভা থেকে দাবি ওঠে, হিমঘরে আলু পচিয়ে নষ্ট করার ব্যাপারে হিমঘর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। রাজ্য সরকার ও প্রশাসন যদি এই ব্যাপারে উপযুক্ত পদক্ষেপ না করে, তা হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৫০০ মানুষ এদিনের জনসভায় উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র- জয় কিষাণ আন্দোলন

বিশদে জানতে ভিডিওটি দেখুন

বক্সারের কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ালেন পাপ্পু যাদব

বক্সারে কৃষক বিক্ষোভ নিয়ে তোলপাড় বিহারের রাজ্য রাজনীতি। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার কৃষকদের পক্ষে মুখ খুললেন বিহারের জন অধিকার পার্টির নেতা পাপ্পু যাদব। তিনি এদিন বলেন, “মহিলাদের ওপর লাঠিচার্জ অত্যন্ত ঘৃণ্য ঘটনা। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী যখন চাকরিপ্রার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ হয় তখন জানতে পারেন না। যখন কৃষকদের ওপর এবং মহিলাদের ওপর লাঠিচার্জ হয় তখনও জানতে পারেন না। এতদিন ধরে বিহারের বক্সারে জমি অধিগ্রহণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। সরকারের উচিত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা”। তিনি আরও বলেন, “গুলি বা লাঠি চালাতে হলে বিহার পুলিশ আমার ওপর চালাক”। তিনি অন্নদাতাদের জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে বিহার সরকারের কাছে উপযুক্ত পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও তোলেন।

সূত্র- লাইভ সিটিস মিডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড

বিশদে জানতে ভিডিওটি দেখুন

কেরালায় বাঘের আক্রমণে মৃত কৃষকের পরিবারকে চাকরির দাবিতে আন্দোলন

কেরালায় বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হওয়া কৃষকের পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বাম শাসিত কেরালা সরকার। সেই দাবিকে সামনে রেখে শুক্রবার কেরালা মানন্থাভাডিতে বিরোধীদের ডাকে ধর্মঘট পালন করলেন সাধারণ মানুষ।

বর্তমান সরকারের ওপর কৃষক এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের দরুণ বিরোধীদের ডাকা ধর্মঘটে রাস্তাঘাট ছিল জনশূন্য। আন্দোলনকারী কৃষকরা বাঘের হামলায় মৃত কৃষক থমাস পি সি (৫০)-র মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করেন। তাঁদের দাবি, মৃত কৃষকের পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ, কৃষিঋণ মুকুব এবং মৃত কৃষকের সন্তানকে সরকারি চাকরি দিতে হবে।

উল্লেখ্য, সরকার জল-জঙ্গল-জমি কেড়ে নিয়ে গরিব মানুষের সঙ্গে বহু পশুপাখিদেরও উচ্ছেদ করেছে। আর তার ফলে বাসস্থান ও খাদ্যের অভাবে বার বার এভাবে বন্য প্রাণীরা লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বাঘের আনাগোনায় চাষিদের মৃত্যু ঘটার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতায় আরও একবার কৃষকের মূল্যবান প্রাণ গেল।  

সূত্র- অনমনোরমা

বিশদে পড়তে এখানে ক্লিক করুন

কৃষকের থেকে লুট: ১৩ জানুয়ারি ২০২৩

ট্যাগ করা হয়েছে:
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *