যোগীর রাজ্যে কৃষক পরিবারের দুই দলিত কন্যাকে গণধর্ষণ করে হত্যা

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 3

হাথরাসের মতো ভয়ঙ্কর ঘটনার ফের পুনরাবৃত্তি উগ্র হিন্দুত্বের পোস্টার বয় যোগী আদিত্যনাথের উত্তরপ্রদেশে। কিছুদিন আগেই যে লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের ট্রাক্টর দিয়ে পিষে খুন করা হয়েছিল, এবার সেখানেই এক দলিত কৃষক পরিবারের দুই কিশোরীকে গণধর্ষণ ও খুন করা হল। নিহত দুই কিশোরীর বয়স যথাক্রমে ১৪ এবং ১৭। বুধবার সন্ধ্যায় লখিমপুর খেরি জেলার নিঘাসন থানার সীমানায় দলিত দুই নাবালিকা বোনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়।

লখিমপুর খেরির পুলিশ সুপার সঞ্জীব সুমন জানিয়েছেন, এই ঘটনায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, এদের নাম, ছোটু গৌতম, জুনায়েদ, সোহেল, হাফিজুল, করিমউদ্দিন ও আরিফ। এদের মধ্যে ছোটু নিহত দুই দলিত কন্যার প্রতিবেশী, বাকিরা পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দা। ধৃতদের কয়েকজনের সঙ্গে নিহত দুই কিশোরীর বন্ধুত্ব ছিল বলে দাবি। যদিও নিহতদের পরিবারের তরফে পুলিশের এই বক্তব্যকে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নিহতদের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, লাশ উদ্ধার হওয়ার ঘণ্টা তিনেক আগে তাদের মেয়েদের কিডন্যাপ করা হয়। তারপরে এই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা।

যদিও পুলিশের আরও দাবি, এদের মধ্যে জুনায়েদ ও সোহেল ওই দুই কিশোরীকে প্রথমে ধর্ষণ করলে, নাবালিকাদের তরফে বিয়ে করার দাবি তোলা হয়। কিন্তু জুনায়েদ ও সোহেল তা অস্বীকার করে এবং হাফিজুলের সাহায্য নিয়ে নাবালিকাদের শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়, এরপর করিমউদ্দিন ও আরিফ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। গোটা ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে মেয়ে দুটিকে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের বক্তব্য। উল্লেখ্য, প্রথমে পুলিশও এটাকে আত্মহত্যা বলে ঘটনাকে চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ।

বিজেপি নাকি ভারত মাতার বন্দনা করে! অথচ তাদের যেখানে নাকি ‘মজবুত শাসন’ সেখানেই নারীশক্তির ওপর এই হামলা। নারীশক্তির মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে, দলিত-সংখ্যালঘুর অধিকার সুনিশ্চিত করতে, কৃষক-শ্রমিকের স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করতে সর্বতভাবে গোটা দেশে বিজেপি জমানার অবসান ঘটাতে হবে।”

অভীক সাহা, সর্বভারতীয় সভাপতি, জয় কিষাণ আন্দোলন।

এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে। উত্তরপ্রদেশের যোগী সরকারকে বিরোধীরা খুন-ধর্ষণ আর সংখ্যালঘু-দলিত-আদিবাসী-কৃষক-মজদুর হত্যার সরকার বলে কটাক্ষ বিরোধী শিবিরের। জয় কিষাণ আন্দোলনের সর্বভারতীয় সভাপতি অভীক সাহা বলেন, “বিজেপির যেখানে যেখানে সরকার আছে, সেখানে সেখানে কৃষক-শ্রমিক, দলিত-সংখ্যালঘু-আদিবাসী নিপীড়িত হচ্ছে। এবং অবশ্যই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে সবচেয়ে বেশি হামলা যাদের ওপরে নেমে আসে, স্বাভাবিকভাবেই বিজেপি শাসনে সেই নারীদের ওপর হামলা চলছে। লখিমপুরে এর আগে কৃষককে পিষে মারা হয়েছে, হাথরাসে জঘন্য ঘটনা ঘটেছে, এবার আবারও লখিমপুরের এই ঘটনা।” তিনি আরও বলেন, ” ব্রাহ্মণ্যবাদী বিজেপি নাকি ভারত মাতার বন্দনা করে! অথচ তাদের যেখানে নাকি ‘মজবুত শাসন’ সেখানেই নারীশক্তির ওপর এই হামলা। নারীশক্তির মর্যাদা ফিরিয়ে আনতে, দলিত-সংখ্যালঘুর অধিকার সুনিশ্চিত করতে, কৃষক-শ্রমিকের স্বরাজ প্রতিষ্ঠা করতে সর্বতোভাবে গোটা দেশে বিজেপি জমানার অবসান ঘটাতে হবে।”

ট্যাগ করা হয়েছে: , , , ,
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *