কৃষক আন্দোলনের ফল ঘরে তুলল সিপিএম, মহারাষ্ট্রে গ্রাম পঞ্চায়েত সভাপতি পদে বিপুল সাফল্য

জয় কিষাণ ডেস্ক
লিখেছেন জয় কিষাণ ডেস্ক পড়ার সময় 2

দিল্লির কৃষক আন্দোলনে যোগ দিয়েছিল সিপিএমের কৃষক ফ্রন্ট। মহারাষ্ট্রেও কৃষকদের লং মার্চে বড় ভূমিকা রেখেছিল। কৃষক আন্দোলনের সঙ্গে এই সংশ্লিষ্টতার জেরেই মহারাষ্ট্রের মোট ৯২ টি গ্রাম পঞ্চায়েত সভাপতি পদে জয়ী হলেন সিপিএম প্রার্থীরা।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষকমুখী হওয়ার ফলেই সিপিএমের এই সাফল্য। উল্লেখ্য, দিল্লির কৃষক আন্দোলনের সাফল্য থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্প্রতি সিপিএম দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কৃষক-শ্রমিক-সহ দলের শ্রেণীভিত্তিক গণফ্রন্টগুলোকে নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন গড়ে তুলবে। টাটা-সালেমের থেকে মুখ ঘুরিয়ে ফের শ্রেণী রাজনীতির প্রতি তাদের আস্থা ফিরে আসার কারণেই তার ইতিবাচক ফলাফল মিলতে শুরু করেছে বলে ব্যাখ্যা রাজনৈতিক মহলের।

প্রসঙ্গত ‘শিল্পায়ন’-এর স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৬-০৭ সালে বাংলায় জমি অধিগ্রহণের সরকারি কর্মসূচীকে বাস্তবায়িত করতে গিয়েই ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছিল সিপিএম নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকারকে। সিপিএমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, কৃষকের পাশ থেকে সরে গিয়ে পুঁজিপতিদের স্বার্থ সুরক্ষিত করার। যার জেরে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল। এরপর জল অনেক দূর গড়িয়েছে। ক্রমে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের আসন কমতে কমতে শূন্য হয়ে যায়।

কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ফের কৃষক-ক্ষেতমজুর ও শ্রমিক কেন্দ্রিক শ্রেণীভিত্তিকে রাজনীতির ভরকেন্দ্র হিসাবে গণ্য করার কারণেই সিপিএম ঘুরে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এর আগে বিহার বিধানসভা নির্বাচনে সিপিআইএমএল-লিবারেশন ও সিপিআই-এর পাশাপাশি অল্পসংখ্যক আসন পেয়েছিল সিপিএমও। এবার মহারাষ্ট্রের গ্রাম পঞ্চায়েত ভোটে বেশ কয়েকটি আসন পাওয়ায় জাতীয় রাজনীতিতে সিপিএম নতুন করে প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাচ্ছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল ।

ট্যাগ করা হয়েছে: ,
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন
মতামত দিন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *